প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমানে দেশে ২২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ বলে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন। তিনিসহ খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়ম ও খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
আজ জাতীয় সংসদে যশোর-৪ আসনের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সদস্য মো. গোলাম রছুলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৭ টন চাল, ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ টন গম এবং ২ লাখ ৩ হাজার ৬৬১ টন ধান মজুত রয়েছে। এগুলোর মোট হিসাব চালের হিসাবে ২২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৭ টন খাদ্যশস্যের সমপরিমাণ।
তিনি আরো বলেন, 'এটি আমাদের দেশে যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ খাদ্যশস্যের মজুত। আমাদের কৃষকরা পর্যাপ্ত ধান ও চাল সরবরাহ করতে পারছেন।'
খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে, তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করবেন। কোনো ব্যক্তি যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অতীতে খাদ্য সংরক্ষণে গাফিলতির কারণে বিভিন্ন স্থানে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মহিলা আসন-৩৯ এর বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সদস্য সাবিকুন্নাহারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ভেজাল খাদ্যের কারণে ক্যানসার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল ভেজালবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর করতে মাঠ পর্যায়ের মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ভেজালবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সুপারিশ করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সমন্বিত কর্মপদ্ধতি প্রণয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সরকার যেভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে, তেমনি খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধেও সফল হবে বলে তিনি আশাবাদী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন