প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময় সার্কাসে কাজ করে নিজের সংসারে সচ্ছলতা আনার স্বপ্ন দেখতেন ফয়সাল সরদার (৩৫)। সেই আয়ে চলত তাঁর পরিবার। কিন্তু করোনার পর সার্কাসের আয়োজন কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় উপার্জনের পথ। এখন নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি তিনি। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে আট সদস্যের পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন বাবা হেমায়েত সরদারের সামান্য আয়।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফয়সাল। তাঁর বাবা মস্তফাপুর স্ট্যান্ডে মাহিন্দ্রা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের উপার্জনে কোনো রকমে চলে সংসার। পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে চিকিৎসা, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো যেন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবারের তিন সদস্যই প্রতিবন্ধী। ফয়সাল নিজে, তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার (৩০) এবং তাঁদের তিন বছর বয়সী মেয়ে জুবাইদা প্রতিবন্ধী। ফয়সাল ও তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য বলতে মূলত তাঁর বাবা হেমায়েত সরদারই।
প্রায় পাঁচ বছর আগে সুবর্ণার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফয়সাল। সুবর্ণার বাবার বাড়ি ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম এলাকায়। তাঁর বাবা কালচানা সরদারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। ফলে মেয়ের সংসারে সহযোগিতা করার সামর্থ্য তাঁরও সীমিত।
ফয়সালের পরিবারে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা, দাদি, স্ত্রী-সন্তান, ছোট ভাই ও বোন। সব মিলিয়ে আট সদস্যের এই পরিবারের জীবন চলছে সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করে। পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে হেমায়েত সরদারকে।
পরিবারটির বসবাস একটি জরাজীর্ণ দোচালা টিনের ঘরে। ঘরের টিনের বিভিন্ন স্থানে ফুটো থাকায় বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ছাদের ওপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে পলিথিন। মাথা গোঁজার এই ঠাঁইটুকুতেই কষ্টে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। সামান্য বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়াও তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।
ফয়সাল প্রায় ১০ বছর সার্কাসে কাজ করেছেন। একসময় সার্কাসে কাজ করেই নিজের সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন তিনি। কিন্তু করোনার পর থেকে সার্কাসের আয়োজন কমে যাওয়ায় কাজের সুযোগ হারান। এরপর থেকে নিয়মিত আয় না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণে বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। তবে মাহিন্দ্রা চালিয়ে পাওয়া সামান্য আয়ে আটজনের সংসার চালানো তাঁর বাবার জন্যও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতা পেলে খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে পরিবারটিতে।
ফয়সালের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সেই আশ্বাস বাস্তব সহায়তায় রূপ নেবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছে অসহায় পরিবারটি।
প্রতিবন্ধকতা, কর্মহীনতা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাওয়া ফয়সালের পরিবারের স্বপ্ন খুব বেশি নয়—দুই বেলা খাবারের নিশ্চয়তা আর নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ঘর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন