প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বজয়ী হাফেজে কুরআনদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিতর্কিত লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘Nexus: A Brief History of Information Networks from the Stone Age to AI’ বইটি উপহার হিসেবে প্রদান করায় আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।
১৯ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজে কুরআনদের সম্মাননা দেওয়া ও তাঁদের অর্জনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তবে, ৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে এমন একটি সম্মানজনক অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে বিতরণ করা বইয়ের বিষয়বস্তু ও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি যথাযথভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক ছিল।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির বিভিন্ন লেখা ও বক্তব্য ইসলামি আকিদা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। পবিত্র কুরআনে সমকামিতাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও সীমালঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, এই লেখকের বই কুরআনের হাফেজদের উপহার হিসেবে নির্বাচন করা মোটেও যথাযথ নয়। সংগঠনটি মনে করে, এটি প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে হয়ে থাকলেও এর পেছনে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁরা জানতে চান, কাদের পরামর্শে এবং কী ধরনের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যেসব কর্মকর্তা বইটি নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা যাচাই করে তদন্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিতরণকৃত বইটি প্রত্যাহার করে হাফেজদের উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য ইসলামি ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থ উপহার হিসেবে দিতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে সরকারি ইসলামিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মাননায় উপহার বা প্রকাশনা নির্বাচনের জন্য স্ক্রিনিং ব্যবস্থা বা বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। চতুর্থত, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও জনগণের অনুভূতির বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
মহাসচিব বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজদের সম্মানিত করার এই মহতী উদ্যোগ যেন কোনো অনভিপ্রেত সিদ্ধান্তের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি একই সঙ্গে ঈমান, ইসলামি মূল্যবোধ ও দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় সর্বস্তরের তাওহিদী জনতাকে সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন