প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ায় বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন মেহেরপুরের আলাল। তাঁর মৃত্যুতে গ্রামে শোকের মাতম চলছে।
আলাল হোসেন রাজু রাশিয়ায় গিয়েছিলেন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে। সেখানে পৌঁছানোর ১৫ দিন পর তাঁর স্ত্রী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
সন্তানের বয়স এখন প্রায় এক বছর। আলালের পরিকল্পনা ছিল আগামী মাসে দেশে ফিরে সন্তানকে দেখা। কিন্তু রাশিয়ায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনি প্রাণ হারান।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে আলাল নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার।
দুর্ঘটনার পর তিন দিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে ঢাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
নিহত আলাল হোসেন রাজু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া গ্রামের খেড়ু মণ্ডলের ছেলে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
স্বজনদের দাবি, প্রায় ১৩ মাস আগে রাশিয়ার সিনোপেক্স ফোর গ্যাস ফিল্ডে কাজ করতে যান আলাল। বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রাশিয়ায় যাওয়ার ১৫ দিন পর তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। আলালের দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল আগামী মাসে।
গত মঙ্গলবার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে আলাল ও জাকির নামের দুই বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরো সাত বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন।
মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্র জানায়, আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হয়। বিস্ফোরণে কয়েকজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ আলালও এসব মরদেহের মধ্যে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।
দূতাবাস সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় আহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। মস্কোয় নেওয়ার পর আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাস দেখভাল করবে।
আলালের ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঢাকায় গিয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করে জানতে পারি, আমার ভাই আর বেঁচে নেই। আলালের এক চীনা বস আমাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং মরদেহ সেনাবাহিনী নিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হবে।’
আলালের চাচাতো ভাই মহির উদ্দিন বলেন, ‘বিস্ফোরণের ঘটনায় আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, রাজু বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। রাশিয়া যাওয়ার ১৫ দিন পর তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই সন্তানকে দেখতে আগামী মাসে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল।’
এদিকে আলালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হোগলবাড়িয়া মাঠপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন