প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের সাত মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনো শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের এই দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র জলে এবং স্থলে বিভিন্নভাবে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উপস্থিতি আরো বৃদ্ধি করছে।
ওয়াশিংটন ইরানের আশপাশের জলসীমায় ২ হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে মার্কিন এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার সান দিয়েগো ঘাঁটি ত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এর একদিন পর, দুই হাজার সেনা নিয়ে ম্যাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও যাত্রা করেছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তার দাবি, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান করবে। এর সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও থাকবে।
তবে পেন্টাগন বলছে, কূটনৈতিক আলোচনা যেভাবেই এগিয়ে যাক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সামরিক বিকল্প খোলা রাখতেই এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি
সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ অভিযানের অধীনে ইরানের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইরান খোদ্রো ও সাইপার, পাশাপাশি রেল, উৎপাদন এবং ইস্পাত খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়।
এদিকে ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সুপারট্যাঙ্কার। এতে আগুন লেগে যায়, তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালির এ পরিস্থিতিকে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
দুজারিক বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এখন এক প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে আছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল। তবে আশা করি, কাতারের মধ্যস্থতায় এই দফার আলোচনা অব্যাহত থাকবে। সুতরাং যোগাযোগের এই পথগুলো খোলা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ থেকে কখনোই পিছপা হবে না তার দেশ। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে তেহরান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন