প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রিন ইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে আকারভেদে ৫০-১০০ কোটি টাকার বেশিও খরচ হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো দেশে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়েছে। গত দেড় দশকে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে এবং ৫ শতাধিক আহত হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প খাত জাহাজভাঙা শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ অর্জনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রত্যেকটি গ্রিন ইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোক্তারা ৫০-১০০ কোটি টাকার বেশিও খরচ করছেন। কিন্তু তাতেও দুর্ঘটনা ও শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই জাহাজভাঙার ইয়ার্ডে ২৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের অদক্ষতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ কম হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে।
পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ সম্মতভাবে স্ক্র্যাপ জাহাজ (পুরাতন) ভাঙার জন্য ২০২০ সালে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত হংকং কনভেনশন অনুযায়ী কেবল দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন ইয়ার্ডের আন্তর্জাতিক সনদ পায়। জুন মাস থেকে বাংলাদেশের অনুসমর্থন কার্যকর হওয়ার পর গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে গ্রিন সনদপ্রাপ্ত ইয়ার্ডের সংখ্যা ২৫টি।
সর্বশেষ ১৮ মার্চ সীতাকুণ্ডের উত্তর সলিমপুরে এনবি স্টিল ও দক্ষিণ শীতলপুরে আরব শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন সনদ অর্জন করে। এর মধ্যে আরব শিপব্রেকিংকে আন্তর্জাতিক মানের দাবিদাওয়ার জন্য ইয়ার্ডের অবকাঠামো খাতে ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) জানাচ্ছে, গত ছয় বছরে যেসব ইয়ার্ড গ্রিন সনদ পেয়েছে, সেগুলোর অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে আধুনিক ক্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি, উন্নত মেঝে, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত মানোন্নয়ন এবং শ্রমিক নিরাপত্তা অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে।
কিন্তু গ্রিন ইয়ার্ডের এ আয়োজনের পরেও শ্রমিকের নিরাপত্তা বাড়ছে না। উল্টো চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি দুর্ঘটনার খবর দিয়েছে।
রিপোর্টে দেখা যায়, এসব দুর্ঘটনার ৮০ শতাংশের কারণে ঘটে গিয়েছে ওপর থেকে গার্ডার কিংবা অন্যান্য ভারী বস্তু পড়ে যাওয়া, ক্রেন হুক খুলে যাওয়া এবং গ্যাস ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে কাটারম্যান, কাটার ও ক্রেন হেলপার, ওয়্যার গ্রুপ, ফিটারম্যান ও লোডিং গ্রুপের শ্রমিকরা অবস্থান করছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে অনিরাপদ আচরণ, কর্মপরিবেশের অনিরাপদ অবস্থা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব দায়ী বলে জানা গেছে।
বিলস সূত্র অনুযায়ী, গত দেড় দশকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের এসব ইয়ার্ডে ২ শতাধিক দুর্ঘটনায় শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫ শতাধিক। ২০২৩ সালে ৩৪টি দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও ২৮ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ২৮টি দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হন। ২০২৫ সালে ৪৮টি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও ৫৮ জন আহত হন। এছাড়া ২০২০ সালে ১০ জন, ২০১৯ সালে ২২ জন, ২০১৮ সালে ১৩ জন, ২০১৭ সালে ১৮ জন এবং ২০১৬ সালে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্যও জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন