প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, সেখানেই আমরা যাব। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাব, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে চীনেও যাব। ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও যাব। আমাদের গন্তব্যগুলি কোথায় হবে, সেটা নির্ধারণ করবে অন্য কেউ, এমনটা নয়। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে আমি শুধু এটুকুই বলব—বর্তমানে বাংলাদেশ সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—আমরা সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে, কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারছি এবং দর-কষাকষি করতে সক্ষম। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা করতে পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।
এছাড়া তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অবশ্যই ভালো হবে। চীন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। মালয়েশিয়া হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে আমাদের বেশ কিছু কৌশলগত স্বার্থও জড়িত রয়েছে। এছাড়া আমরা আসিয়ানের সদস্যপদের জন্য আবেদন করছি। ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি বাজারেও প্রবেশের চেষ্টা করব। এসব বিষয়ও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, আমরা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি সক্রিয় পক্ষ—যে নরম শক্তি, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে প্রভাবশালী করে তুলতে চায়। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হব, তবে দেশপ্রেম সব সময় অগ্রাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, আমি আশা করি এই সফর সফল হবে। প্রথম সফর মালয়েশিয়া, দ্বিতীয় সফর চীন। এরপর আরও সফর হতে পারে। তবে প্রতিটি সফরই হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ জন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর সফর। যাদের প্রয়োজন, শুধু তাদেরই নেওয়া হবে। আগের মতো বড় বড় দল নিয়ে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া কিংবা সরকারি অর্থ অপচয় করার সংস্কৃতি এখন আর নেই। এখন প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কাজের প্রয়োজন ও জনগণের টাকার জবাবদিহির ভিত্তিতে।
‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন—যাদের মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন, তারা মালয়েশিয়া যাবেন; যাদের চীনে প্রয়োজন, তারা চীন যাবেন। শুধু বিমানভর্তি লোক নিয়ে সফরের সেই সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রতিটি পয়সা খরচ হবে জনগণের স্বার্থে, বিচক্ষণতার সঙ্গে। এটাই এই সরকারের অবস্থান। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, কারও ব্যক্তিগত আগ্রহ বা বিলাস পূরণের উদ্দেশ্যে নয়। তাই আমরা বিশ্বাস করি মালয়েশিয়া ও চীন, দুই সফরই সফল ও ফলপ্রসূ হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এসময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়া, যেখানেই অর্থ পাচার হোক, সেখান থেকেই তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন