প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখার্জি আর আমাদের মাঝে নেই। রবিবার রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৭১ বছর। খবরটি এনডিটিভির মাধ্যমে জানা যায়।
সত্তরের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে মিঠু মুখার্জি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। অভিনয়ের বিশেষ ধরন এবং পর্দায় তার উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে একটি আলাদা স্থান তৈরি করেছিলেন। তবে জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র ও জনসম্মুখ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এই অভিনেত্রী।
১৯৭২ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় অভিষেক ঘটান। এরপর দীনেন গুপ্তর ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। এই ছবির সাফল্যের পর বাংলা চলচ্চিত্রে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
মিঠু মুখার্জির উল্লেখযোগ্য বাংলা সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘নিশিকন্যা’, ‘মৌচাক’ ও ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ অন্তর্ভুক্ত। সত্তরের দশকে এসব সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর বাসু চ্যাটার্জির ‘সফেদ ঝুট’-এ অভিনয় করেন। তার অভিনীত অন্যান্য হিন্দি সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’।
একসময় অভিনয় থেকে দূরে সরে যান মিঠু মুখার্জি। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে চন্দ্রা বারোটের ‘আশ্রিতা’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফিরে আসেন তিনি। তবে এরপরও তাকে নিয়মিত অভিনয়ে দেখা যায়নি।
সত্তরের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থাকলেও মিঠু মুখার্জির অভিনীত চরিত্র ও সিনেমাগুলো এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন