প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সভাকে উদ্দেশ্য করে, সংসদ ভবনে ১৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবা যাতে আরও সহজ, সমন্বিত এবং হয়রানিমুক্ত হয়, সেই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসব তথ্য তিনি জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে প্রদান করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন, বিমানবন্দরে সেবা, ভিসা এবং অন্যান্য সেবার কার্যক্রমে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সম্পৃক্ত রয়েছে। এসব সেবার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কাজ করবে।
তিনি নিশ্চিত করেন, বর্তমান সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিদেশে কর্মরত বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রধারী যদি কোনো বাংলাদেশি কর্মী মারা যান, তবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে মৃতদেহ দ্রুত দেশে আনা, বিমানবন্দরে গ্রহণ, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর, দাফন সহায়তা এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে মরদেহ পরিবহন ও দাফন ব্যয়ের জন্য তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩১২ জন প্রবাসীর পরিবারের মধ্যে মোট ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহ ও অসুস্থ প্রবাসীদের নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বহির্গমন ছাড়পত্র বা বোর্ডের সদস্যপদের অধিকারী প্রবাসীর পরিবারকে দুই মাসের মধ্যে ৩ লাখ টাকার এবং অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত ১৮১টি মেডিকেল সেন্টার নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে। যদি অতিরিক্ত ফি আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশগমন উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে বৈধ উপায়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্যও বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের কম খরচে বৈধ চ্যানেলে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে একটি কমিটি সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বল্প ব্যয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন