প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালকিনি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন। সভাটির সভাপতিত্ব করেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফীন।
এ সময়ে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে শহিদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতিচারণ করেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আবেগঘন মুহূর্তে, মাদারীপুরের শহিদ শিফাতের বাবা কামাল বেপারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনার বাহিনী আমার ছেলের বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর হতে পারে না।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের ভূমিকা এবং গুমের সময় তাঁর ওপর চালানো নির্যাতনের ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওটি প্রদর্শনের সময় সভাকক্ষে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকেই দীর্ঘদিন গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলো দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, “আমি গুম হয়েছিলাম, নির্যাতন সহ্য করেছি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ফিরে এসেছি। আমার সন্তানরা আজ আমাকে দেখতে পায়। কিন্তু যারা গুম হয়ে আর ফিরে আসেননি, তাদের পরিবারের ত্যাগ ও কষ্ট অনেক বড়। আমরা সেই আত্মত্যাগ কখনো ভুলতে পারি না।”
তিনি আরো জানান, “১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে বুক পেতে বুলেট গ্রহণ করেছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সেই বীর শহিদদের আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন নতুন শক্তি পেয়েছে।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আরো বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাই আমি মনে করি, তিনি নির্যাতিত মানুষের প্রতিনিধি এবং নির্যাতিত মানুষের অভিভাবক।”
এ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন