প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘আত্মরক্ষা’ ও ‘অস্ত্র উদ্ধারে গুলি’র একই পুরানো স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট বক্তারা। বক্তাদের মতে, বাহিনীগুলো আত্মরক্ষা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমার্থক শব্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যা বিদ্যমান ফৌজদারি আইনের দুর্বলতাকে প্রকাশ করে।
সোমবার, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর দ্বিতীয় পর্বে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। এবারের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল স্বাধীনতার পরবর্তী বিতর্কিত ‘জাতীয় রক্ষীবাহিনী’।
সেমিনারে মূল বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা শেষে সভাপতির বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার পরপরই সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে ভীতিকর দুটি শব্দ ছিল 'রক্ষীবাহিনী' ও 'বাকশাল'। আলোচকেরা আজ সেই রক্ষীবাহিনীর নানা লোমহর্ষক ঘটনা ও ইতিহাস তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে প্রচুর কাজ হলেও ৭২ থেকে ৭৫-এর শাসনকাল নিয়ে মানসম্মত গবেষণা ও দলিলপত্রের অভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। তবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের পেছনের ইতিহাস নিরপেক্ষভাবে জানতে হবে। স্বাধীনতার পর যেভাবে একচ্ছত্র শাসন কায়েম করা হয়েছিল, চারটি রাষ্ট্রীয় পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং রক্ষীবাহিনী গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারবহির্ভূত হত্যা শুরু হয়েছিল—সেসব সত্য ইতিহাস তুলে ধরতেই আমরা এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সেমিনার সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন