প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জ, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের ৩৭ জেলা শহরে পানি শোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারটি এখন নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত। এই শোধনাগার প্রতিদিন ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি শোধন করে পাইপলাইনে সরবরাহ করবে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার আয়তন প্রায় ১৭.৭৪ বর্গকিলোমিটার। এখানে ১ লাখ জনসংখ্যা রয়েছে এবং প্রায় ২৫ হাজার পরিবার বসবাস করে। পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে পাইপলাইনে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিনের পানির চাহিদা প্রায় ৩৩ লাখ গ্যালন, কিন্তু সরবরাহ করা হয় মাত্র ২৩.০৫ লাখ গ্যালন।
মুন্সীগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৗশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর বাসসকে জানান, ২০১৮ সালে দেশের ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে মুন্সীগঞ্জ শহরে হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় পানি শোধনাগার স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
তিনি জানান, ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারটি সুপেয় পানির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, মুন্সীগঞ্জ শহর সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর পানি তুলে এনে প্রতিদিন ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি শোধন করে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের পাইপলাইনে সরবরাহ করা হবে। পানি শোধনাগারটির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষাসহ পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। নদী থেকে শোধন করে সরবরাহ করা পানি হবে বিশুদ্ধ, নিরাপদ, স্বাস্থ্য সম্মত এবং আয়রন মুক্ত।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, চলমান কিছু কারিগরি কাজ শেষ হলে প্রকল্পটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পৌর কর্তৃপক্ষকে শোধনাগারটি বুঝে নিতে অবহিত করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি) মো. আনিসুর রহমান বাসসকে জানান, বর্তমানে পৌরসভায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার পানির লাইন রয়েছে, যা জনসংখ্যা ও এলাকার তুলনায় অপর্যাপ্ত। পানি শোধনাগার প্রকল্পটি চালু হলে পৌর এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার নতুন লাইন সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকায় পাইপলাইনে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং উপকৃত হবেন পৌর এলাকার ৫ শতাধিক পরিবার।
জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আরিফ উল ইসলাম বাসস’কে বলেন, পানি শোধনাগার থেকে শহরের পাইপলাইনে পানি সরবরাহ শুরু হলে পৌরবাসী নিরাপদ এবং আর্সেনিক ও আয়রন মুক্ত সুপেয় পানি পাবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রকল্পটি চালু করে পৌর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গনকপাড়া নিবাসী প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বাসসকে বলেন, পানি শোধনাগারটি চালু হলে পাইপলাইনে পানি সরবরাহের উন্নতি হবে। তবে পানি উন্নয়ন কর যেন বৃদ্ধি না পায়, সে দিকে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি রাখতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন