প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরসভার একমাত্র বড় হাট ইটাখোলা হাট ও বাজারে চরম অগোছালো পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে। বেদখল হয়ে গেছে হাটের জায়গা, নেই কোনো নির্দিষ্ট জবায়খানা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং ড্রেনেজ সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন।
জানাগেছে, পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের ক্ষেতলাল মৌজায় ইটাখোলা মহল্লায় ১ একর ৯৫ শতক জায়গা জুড়ে সপ্তাহে দুটি দিন (শুক্রবার ও মঙ্গলবার) চলে এই হাটে হাজারো মানুষের সমাগম। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টাকায় হাটের ইজারা নেয়। তবুও বড় অংকের রাজস্ব আদায় হলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো শৃঙ্খলা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পট্টি বসানোর কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। গাদাগাদি করে মাছের পট্টির পাশে মিষ্টির দোকান রয়েছে, যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার, প্রাণীসম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পে পৌর কাঁচাবাজার যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা নিয়ম না মেনে সেখানে টেইলার্স এবং ভ্যারাইটি স্টোর ও স্টোররুম হিসেবে বসে আছে।
এছাড়া, জবায়খানা না থাকায় খোলা জায়গাতেই গরু ও খাসি জবাই করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা। মাছের পট্টি, কসাইখানা ও গণটয়লেটের বর্জ্য একত্রে পড়ে পরিবেশকে দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর করছে। প্রতিবছর কুরবানির পশুর হাট রাস্তা দখল করে বসানো হয়।
স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, "নিয়মিত টোল দিয়ে ব্যবসা করি। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পণ্য বিক্রি করতে পারি না।" মাছের বাজার পাশে হওয়ায় সবসময় ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে। বাজারে আসা ক্রেতা জাইদুল বলেন, "হাটের বারোয়ারী ছাড়া অন্য বারোয়ারীগুলো এত নিচু যে অসাবধান হলেই মাথায় আঘাত লাগে।" বয়স্ক মানুষদের জন্য গণটয়লেটের রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
হাটের ইজারাদার বাবলু জানান, "ইজারা নেওয়ার পরই বাজারের বেদখল জাগা ও সীমানা নির্ধারণসহ সমস্যাগুলো পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।" এ বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী আফতাব হোসেন বলেন, "ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন