প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে একটি নতুন ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, যিনি দীর্ঘস্থায়ী সরকারের রেকর্ড স্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য পরিচিত ইতালির রাজনীতিতে তাঁর এই অর্জন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।২০২২ সালের অক্টোবরে মেলোনির ডানপন্থী দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি' ক্ষমতায় আসে। তিনি ১,৪১২ দিনেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির একক মেয়াদের দীর্ঘতম শাসনকালকে অতিক্রম করেছেন।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের ফলে ইতালির বিভিন্ন স্থানে উল্লাস প্রকাশ করছেন মেলোনির সমর্থক ও দলের কর্মীরা। কনিষ্ঠ আইনপ্রণেতা গ্রাৎসিয়া দি মাজ্জো বলেন, "এটি কেবল একটি রাজনৈতিক মাইলফলক নয়, বরং গভীর প্রতীকী অর্থ বহন করে। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডানপন্থী রাজনৈতিক পটভূমি থেকে এসে এমন রেকর্ড গড়া প্রমাণ করে যে সততা, ত্যাগ ও যোগ্যতা দিয়ে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মেলোনির এই দীর্ঘস্থায়িত্বকে কতটা "স্থায়িত্ব" এবং কতটা "স্থবিরতা"—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রোমা ট্রে ইউনিভার্সিটির সমকালীন ইতিহাসের শিক্ষক পাওলো কারুসি জানান, মেলোনির দীর্ঘ মেয়াদের পেছনে ২০১৮ সালের নির্বাচনী আইন কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, যা তার জোটকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করেছে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণার কিছু উগ্র এজেন্ডা থেকে সরে এসে জোট সঙ্গীদের ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তার দল।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিজ্ঞানী পিয়েরো ইনগিয়াজি মনে করেন, এই স্থায়িত্বের আড়ালে অর্থনৈতিক স্থবিরতা রয়েছে। ২০২৬ সালে ইতালির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৬ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে এবং দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ ঋণের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। পাশাপাশি, মেলোনি সরকারের আমলে প্রতিবাদ ও জনবিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫২টি নতুন অপরাধমূলক ধারা সংযোজন নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এমন পরিস্থিতির পরও, রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ইতালিতে, যেখানে গত আট দশকে ৬৮ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, মেলোনির এই টানা শাসন ইতালীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন