প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আগামী মাসে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্সের তিনটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতে শি চিনপিংয়ের আগমন সাত বছরের মধ্যে তার প্রথম সফর হবে।
ভারতের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চীনা কর্মকর্তারা শি চিনপিংয়ের সফরের প্রস্তুতি হিসেবে হোটেল এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। অন্য দুটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, শির সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার একটি বড় প্রতিনিধিদল আসতে পারে। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরে ২০০ জনেরও কম কর্মকর্তা ছিলেন।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে। শি চিনপিং যদি সম্মেলনে উপস্থিত হন, তাহলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা এবং সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা অধিক গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্মেলনের সময় ভারত ও চীনের কর্মকর্তারা সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
তবে শি চিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং ভারত ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এ বছরের ব্রিকস সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের জন্য চীন ভারতকে সমর্থন করছে। উল্লেখ্য, শি ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শি চিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা
ভারত ও চীন দুটোই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। হিমালয় অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর একটি বড় অংশ এখনো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয় এবং দুই দেশই এর কিছু অংশের দাবি করে।
২০২০ সালে সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। এরপর সীমান্তে প্রায় চার বছর সামরিক উত্তেজনা চলতে থাকে। অবশেষে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই দেশ সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।
তবে সীমান্ত নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ১২ আগস্ট ভারত জানায়, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের টহল দলের মুখোমুখি হওয়ার খবরও আসে।
সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ভারত ও চীন এখনো একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি দুই দেশের জন্য কিছু ক্ষেত্রে অভিন্ন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সম্মেলনে শি চিনপিংয়ের সম্ভাব্য উপস্থিতি ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন