প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর অথবা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
গত শুক্রবার শিলিগুড়ি সফরের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় অমিত শাহ করিডরটির নিরাপত্তায় প্রশাসনিক এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন। শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রায় ১৮৯ কোটি রুপি ব্যয়ে বিভিন্ন আবাসিক ও প্রশাসনিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তাও উপস্থিত ছিলেন।
নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থানের কারণে শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অমিত শাহ।
তিনি জানান, করিডরটির নিরাপত্তায় ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গঠন করা হয়েছে। এই গ্রিডের আওতায় চোপড়া, কিষানগঞ্জ এবং ধুবড়ি ঘাঁটি থেকে বিভিন্ন নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো নিয়মিত সামরিক মহড়ার মাধ্যমে করিডরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গে অমিত শাহ অভিযোগ করেন যে, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন, কিন্তু সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে তা পাওয়া যায়নি।
তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ এবং এসএসবির জমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে এক হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বাকি ২৯ একর জমিও দ্রুত অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর যোগাযোগ উন্নয়নে ছয় হাজার ৮৩৯ কোটি রুপি ব্যয়ে কাজ চলছে।
এছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডর চালু হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে কয়েক ঘণ্টায় শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও জানান অমিত শাহ।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন