০৮:৪২ এম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে খুনের অভিযোগে প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী ‘আয়েশা’র আসল পরিচয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটিভভাবে শনাক্ত করেছে। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণীর প্রকৃত নাম এবং তাঁর স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ভয়াবহ দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।
সোমবার সকালে শাহজাহান রোড এলাকায় ওই ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তাঁর কন্যা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, ‘আয়েশা’ নামের ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী গৃহকর্মীই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে ২ জন নিহত, ৩ জন আহত
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরে আলমারী থেকে মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা চুরি হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরে ‘আয়েশা’ নাফিসার স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। তিনি সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে কাজে ঢুকেছিলেন।
অন্যদিকে, নিয়মিত বোরকা পরিধান করার কারণে তাঁর মুখ স্পষ্ট ধরা পড়েনি, যার ফলে শনাক্তে পুলিশকে অনেক manual পন্থা অবলম্বন করতে হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি চিত্রগুলো অকার্যকর হওয়ায় তাঁর পালানোর সঠিক পথটি স্পষ্ট নয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, তরুণীর প্রদত্ত নাম এবং ঠিকানা ভুয়া, এবং বাসা থেকে নেওয়া মোবাইল ফোন আলমারী থেকে বের হতেই বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সাথে তাঁর কোনো ফোন যোগাযোগও ছিল না।
আরও পড়ুন: যশোরে নির্বাচন ও ভালোবাসা দিবস নিয়ে ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি
হত্যাকাণ্ডের পর, নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী স্কুলশিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় গৃহকর্মী ‘আয়েশা’কে একমাত্র অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, সোমবার সকালে তিনি স্কুলে চলে যাওয়ার সময় স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন স্ত্রীর ও মেয়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে।
সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি ছুরিকাঘাত লক্ষ্য করা যায়, যেখানে মেয়ের শরীরে ৪টি ছুরিকাঘাত ছিল। তাদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় দাফন করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গোবিন্দগন্জে ৪ ভোট বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন