প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে রুমা উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পাহাড় ধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে শতাধিক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
৬ জুলাই তারিখ থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে মুনমামপাড়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধস ও মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির ফলে ওই সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে রুমা-বগালেক-কেওক্রাডং সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, গত ৮ জুলাই থেকে রুমা-বান্দরবান সড়কও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে যাওয়ার কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিভিন্নস্থানে মাটি ধসে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে রুমার সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
গত শনিবার থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে সচল হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সুতরাং, জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বন্যাকবলিত এলাকা ও ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ চলছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীও দুর্গত মানুষদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আল হাসান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারগুলোর জন্য চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবারও ব্যবস্থা চলছে।
রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু বাসসকে জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি, পাহাড় ধসে জুমচাষ এবং বিভিন্ন ফলবাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই কারণে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
রুমা বাজারের মারমা লাইনের বাসিন্দা বাসন্তী দাস জানিয়েছেন, গত ৭ জুলাই রাত থেকে তার ভাড়া বাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তিনি ঠিক জানেন না, কবে বাড়িতে ফিরতে পারবেন। একই ধরনের দুর্ভোগে রয়েছেন আরও অনেক পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা মেচিংথুই জানান, বন্যার সময় তার ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে টানা দুই দিন খাবার জোটেনি। বর্তমানে পানি কমতে শুরু করায় তিনি ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ করছেন।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রুমা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন