প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন বাজেটে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা এমন নীতি-কৌশল চাচ্ছেন, যাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে ফ্ল্যাটের দাম লুকানোর জন্য কোনো প্রকার কৌশলে আশ্রয় নিতে না হয়। তারা একইসঙ্গে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার দাবিও তুলেছেন। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, অবৈধ অর্থকে বৈধ করার সুযোগ না দেয়াই উচিত। বরং ফ্ল্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া এমনভাবে সাজানো প্রয়োজন, যাতে কর ফাঁকির প্রবণতা প্রতিরোধ করা যায়।
আন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান শরিফ। তার পরেও, তিনি পরিবারের জন্য একটি ফ্ল্যাট কেনার কল্পনা করছেন, যা গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। সঞ্চয় করেও, মূল্য বৃদ্ধির কারণে সেই স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে।
রায়হান শরিফ বলেন, "সবকিছুর দাম লাফিয়ে বাড়ছে। যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য খুবই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে স্বপ্ন; নিজের একটা ফ্ল্যাট থাকা বা নিজের একটা বাসস্থান থাকা সেটি এখন খুবই দুরূহ হয়ে যাচ্ছে।"
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের তথ্যমতে, রড-সিমেন্টসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ঘটেছে, যার কারণে কয়েক বছরে ভবন নির্মাণ ব্যয় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই বাস্তবতার ফলস্বরূপ ফ্ল্যাট এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং খাতটি বিক্রির মন্দার মুখোমুখি হয়েছে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক জানান, "নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, ইম্পোর্টেড আইটেমের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি; সবকিছু মিলিয়ে ঢাকায় সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট সরবরাহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।"
গোল্ডস্যান্ডস গ্রুপের সিইও শাহাদাৎ হোসেন বাহার বলেন, "বিশ্ব যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব জায়গায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল নির্মাণের ক্ষেত্রেও এসব পণ্যের ওপর ছাড় দেয়ার দাবি উঠেছে।"
এদিকে, বিক্রির ক্ষেত্রে নিবন্ধন ব্যয় কমাতে ফ্ল্যাটের আসল দাম কম দেখানোর অভ্যাস চলছে, যা সরকারের রাজস্ব আয়কে হুমকিতে ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে নিবন্ধন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "ফ্ল্যাটের প্রকৃত ব্যয় অনুযায়ী কেনা মূল্যের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনে মৌজা ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন খরচ সমন্বয় করে একটি 'উইন-উইন' পরিস্থিতি তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।"
তবে মন্দার মধ্যে আবাসন খাতকে চাঙা করতে পুনরায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার দাবি তুলেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এতে করে অর্থপাচার কমে যাবে এবং দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. মো. আলী আফজাল বলেন, "যদি এ ধরনের ব্যবস্থা না রাখা হয়, তাহলে টাকা বিদেশে চলে যাবে এবং নতুন করে বেগমপাড়া তৈরি হবে। তাই একটি আইন ও নিয়মের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।"
রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সাথে একমত রয়েছে অর্থনীতিবিদরা, তবে তারা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেয়ার পক্ষে। সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, "এ ধরনের সুযোগ না দিয়ে বরং ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে এনআইডি ও টিআইএন-এর সাথে যুক্ত করা উচিত।"
মধ্যবিত্তের স্বস্তি ফেরাতে পুরোনো ফ্ল্যাট বিক্রিতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন