প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুসলমানদের জন্য পবিত্র ভূমি সৌদি আরব। পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনা অবস্থিত সৌদি আরবে।
প্রতিবছর সারা বিশ্ব থেকে লাখো মুসলমান সৌদি আরব যান হজ করতে। এখন চাইলে আপনি নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সেই পবিত্র ভূমিতে সম্পত্তি কিনতে পারবেন। এমনকি সৌদি আরবে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না করেও আপনি সম্পত্তি কেনার এই সুযোগ নিতে পারবেন। তবে এজন্য আপনাকে মানতে হবে কিছু শর্ত।
বিদেশি নাগরিকদের সৌদি আরবে সম্পত্তি কেনায় উৎসাহিত করার এবং বিদেশি কোম্পানির নিবন্ধন সহজ করতে দেশটির বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘ইনভেস্টর গাইড ২০২৬’এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। সম্প্রতি সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় এর বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। মূলত সম্পত্তি কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি আরবে সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলোকে তাদের নিজ দেশের বাণিজ্যিক নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হবে। তবে জমা দেওয়ার আগে সেটি অনুমোদিত অনুবাদ অফিস দ্বারা অনুদিত এবং সেই দেশের সৌদি দূতাবাস দ্বারা প্রত্যয়ন করে দিতে হবে। পাশাপাশি আগ্রহী কোম্পানির আর্টিক্যালস অফ ইনকরপোরেশন একইভাবে অনুবাদ ও প্রত্যয়ন করে দিতে হবে। আগ্রহী কোম্পানিকে সৌদি আরবে কোম্পানির একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। প্রতিনিধি নিয়োগের নথিও একই প্রক্রিয়ায় অনুবাদ ও প্রত্যায়িত হতে হবে। সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী কোম্পানির নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে একই প্রক্রিয়া অনুমোদিত প্রতিনিধিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে হবে।
আগ্রহী কোম্পানিকে তার নিজ দেশের সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। সব শর্ত মেনে সৌদি আরবের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হওয়ার পর কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা যাবে না। পরিবর্তন এলে নিবন্ধন নবায়ন করা যাবে না। সৌদি আরব বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের ইলেকট্রনিক পোর্টালের মাধ্যমে আগ্রহী কোম্পানি এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।
বিদেশি রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে এবং নতুন বিনিয়োগ আইনের সঙ্গে প্রক্রিয়াগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই ‘ইনভেস্টর গাইড ২০২৬’-এ এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই সংযোজনের ফলে সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। সৌদি আরব তেল নির্ভরতা কমিয়ে তাদের অর্থনীতির বহুমুখীকরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, এই প্রক্রিয়া তাতে গতি আনবে। আইনি প্রক্রিয়া সহজ করায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন। তার চেয়ে বড় কথা হলো, পুরো প্রক্রিয়াটি সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রত্যায়িত হওয়ায় এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক হওয়ায় এতে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে সৌদি আরবে নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে, অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন