প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ-৩ এলাকার ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন খতিজাতুল মহিলা হেফজখানায় ঘটেছে পাহাড় ও দেয়াল ধসের ঘটনা, যার ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। তার সাথে আহত ১২ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর দেড়টা নাগাদ সংঘটিত হয় ঘটনাটি, যা টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে পাহাড়ি মাটির আঘাতে ঘটে। সময়ের অন্তরালে ওই সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী হেফজখানায় উপস্থিত ছিল এবং দেয়াল ধসের ফলে তারা চাপা পড়ে। এই ঘটনায় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার এখন পর্যন্ত ৮ জন মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রাতে ১৪ আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার মো. সিরাজ আমিন একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিহত ৮ জন রোহিঙ্গা মাদরাসা ছাত্রীর মধ্যে ৫ জনের পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের পরিচয় হলো, ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের সামশুল আলমের মেয়ে শাহিদা (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের আব্দু. শুক্কোরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/৮ ব্লকের মো. ইলিয়াছের মেয়ে ওমাইচা বিবি (১৩) এবং একই ক্যাম্পের এ/১১ ব্লকের হাসেম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা (১৬)। অন্য তিনজনের নাম ও পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যুর পরের ৩ দিনের মাথায় বুধবারের এই ঘটনা ঘটল।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান যে, পাহাড়ধসের ঘটনায় মাদরাসা থেকে মোট ২০ জন শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে এবং পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, আহত ১২ জনকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে (এক) হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি (আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট) হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউএনও পান্না আক্তার উল্লেখ করেন যে, পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত এই মাদরাসাটির চারদিকে ইটের দেয়াল নির্মাণ করা ছিল এবং উপরে টিন ও বাঁশের ছাউনি ছিল। অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি দেয়ালে আঘাত হানলে সেটি ধসে পড়ে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা আনাম জানিয়েছেন, মাদরাসাটি পাহাড় কেটে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে দেয়ালের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। এ মাদরাসাটিতে ১৮০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করত, তবে গতকাল ভারি বর্ষণের কারণে উপস্থিতি কম ছিল এবং ৩০ থেকে ৩৫ জন মেয়েই উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন যে, মাদরাসাটির নিয়ন্ত্রণ ছিল রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার অধীনে এবং কথিত আরসা নেতা মৌলভি জুবায়ের এটি পরিচালনা করতেন। এতে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় মোট ৩ শিফটে রোহিঙ্গা কন্যাশিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে ঘটনার পর মৌলভি জুবায়ের পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন