প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আধিকারিক পদক্ষেপ হিসেবে ''সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ'' নামে নতুন একটি চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। এই নতুন চার্জ আরোপ হলে, আমদানি করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে অতিরিক্ত ব্যয় হবে বাংলাদেশের।
এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) থেকে পৃথকভাবে যুক্ত হবে। এই চার্জ গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয়। ইতিমধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এই চুক্তি করার বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভারতInitially প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ১ ভারতীয় পয়সা হারে এই চার্জ দাবি করেছিলো। তবে পরে বিপিডিবি দরকষাকষির মাধ্যমে চার্জের হার প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি বা আধা পয়সায় নির্ধারণ করেছে। ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বিদ্যুৎ বিষয়ক আইন অনুযায়ী এই চুক্তি স্বাক্ষর করা জরুরি। চুক্তি স্বাক্ষরে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মতে, এসএনএ চুক্তির আওতায় প্রতিটি ইউনিটের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি এসএনএ চার্জ প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপিডিবির লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) কাছে এই চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত চার্জ আপনাদের কাছে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বর্তমানে প্রযোজ্য চার্জের হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরো সক্ষমতায় নিরবচ্ছিন্নভাবে আমদানি করা হলে, এক ঘণ্টায় আমদানি হবে ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। আর প্রতি ইউনিটের ০.০০৫ রুপি হিসাবে, প্রতি ঘণ্টায় ভারতকে এসএনএ চার্জ দিতে হবে ৫ হাজার ৮০০ রুপি। এসএনএ চার্জ মূলত বিদ্যুতের দাম নয়; এটি আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের গ্রিড-অপারেশন ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ। বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জের নিষ্পত্তি সহজ করতে এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছেবি ভারতের সিইআরসি।
সিইআরসি’এর বিধিমালা অনুযায়ী, এসএনএ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ লেনদেনের সময়সূচি সমন্বয়, গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ, নির্ধারিত সরবরাহের তুলনায় কম বেড়েশ্বাস বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডেভিয়েশন চার্জ, রিঅ্যাক্টিভ এনার্জি চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি আলাদা কন্ট্রোল এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির জন্য মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং ও সেটেলমেন্টের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ক্রয়ের মূল মূল্য বা ট্যারিফের বাইরে গ্রিড ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ ধরনের চার্জকে এসএনএ চার্জ হিসেবে গণ্য করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এই এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে।
এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বিপিডিবির। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে এই চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে আলাদা করে চুক্তি করার প্রয়োজন নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন