প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিরাপদ পানি প্রকল্পে ১০ শতাংশ নেওয়ার অভিযোগ
## সচিবের নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক হানিফের বিরুদ্ধে
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অধীনে বাস্তবায়িত *‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’* ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের অনুমোদন ও প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) প্রক্রিয়ায় প্রায় *১০ শতাংশ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ* করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও প্রকৌশলী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গ্রামীণ ও জনবহুল এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাই ছিল এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২৬ মেয়াদের এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ ও গভীর নলকূপ স্থাপন, পানি শোধনাগার ও আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ এবং দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এমন গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
### *সচিবের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ*
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক *মো. হানিফ* বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সইএন) এবং প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের ইস্টিমেট নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে হাতে হাতে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন ও কাজের ক্ষেত্রে প্রায় *১০ শতাংশ অর্থ নেওয়া হচ্ছে* বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ সরাসরি অর্থ না নিয়ে বিভিন্ন সময়ে *স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর নাম ব্যবহার করেন*।
ওই ঠিকাদারের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের নাম ব্যবহার করেও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়।
### *ইস্টিমেট নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ*
প্রকল্পটির ইস্টিমেটার *আনোয়ারুলের* বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইস্টিমেট প্রস্তুত ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ইস্টিমেট হাতে হাতে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা এবং ঠিকাদার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
### *‘অর্থ নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ হয়নি’*
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে বললে হয়রানির আশঙ্কায় তিনি এতদিন নীরব ছিলেন। তাঁর কাজ সম্পন্ন না হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।
### *ফোন করেও পাওয়া যায়নি প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য*
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক *মো. হানিফের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।* ফোনে বিষয়টি জানার জন্য কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইস্টিমেটার *আনোয়ারুলের* বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের নথিপত্র, ইস্টিমেট, অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।
### *নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি*
অভিযোগকারীদের দাবি, নিরাপদ পানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় করা হয়েছে। তাই প্রকল্পের ইস্টিমেট প্রস্তুত, অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের বাস্তবায়ন এবং অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাঁরা প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে *‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর* অর্থ ব্যয়, ইস্টিমেট ও অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন