প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তেলের দাম কিছুটা নিচে আসার পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) লেনদেনের এক পর্যায়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানিভিত্তিক মূল্যস্ফীতির যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। খবর রয়টার্স।
বাজারের তথ্যে দেখা যায়, শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ করা সোনার দাম (স্পট গোল্ড) ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১.৩৬ ডলারে পৌঁছে। দিনের শুরুতে সোনার দাম প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন সোনার দাম (গোল্ড ফিউচার্স) ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩.৬০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস’র বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো বলেন, ‘দিনের শুরুতে সোনার বাজারের যে দরপতন দেখা গিয়েছিল, তেলের দাম কমে আসায় তা ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে। তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ কমে যাবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের ধারণা, ফেড নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে। আর এটি আগামী মাসগুলোতে সোনার দাম ধরে রাখতে মূলসমর্থন হিসেবে কাজ করবে।’
এর আগে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করার পর গত বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। ফলে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু শুক্রবার কিছুটা দরপতনের পর তেলের দাম আবার সেই মাইলফলকের নিচে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তেলের উচ্চমূল্য সোনার বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। কারণ জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়, যা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে হয়।
আর সুদের হার বেশি থাকলে সুদমুক্ত বিনিয়োগ মাধ্যম হিসাবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।’
বিশ্বের বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ চীনে সোনার চাহিদা সামান্য বেড়ে গেলেও ভারতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ ভারতে কেনাকাটা বেশ ঝিমিয়ে পড়েছে। চাহিদা কমায় সেখানে ছাড়ের (ডিসকাউন্ট) পরিমাণ গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুগুলোর দামেও সামান্য উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এর মধ্যে রুপার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮.৪৩ ডলারে উঠেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬০২.৭৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৬.৯৫ ডলারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন