প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হলিউডের স্বর্ণযুগের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম নোভাক মৃত্যুর পর প্রচলিত দাহ বা সমাহিত হওয়ার পদ্ধতির পরিবর্তে নিজের দেহকে জৈব সারে পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই জৈব সার ব্যবহার করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর, যাতে মৃত্যুর পরেও প্রকৃতির মধ্যে তাঁর বেড়ে ওঠা অব্যাহত থাকে। ৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী তাঁর শেষযাত্রা নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
কিম নোভাক জানিয়েছেন, তিনি কয়েক বছর আগে থেকেই মৃত্যুর পর দেহের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করে রেখেছেন। তাঁর ইচ্ছা, মৃত্যুর পর তাঁর দেহ থেকে তৈরি জৈব সার দিয়ে গাছ লাগানো হবে। গাছের মাধ্যমে তিনি যেন নতুনভাবে বেঁচে থাকতে পারেন, এমন ভাবনা তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
নিজের এই ইচ্ছার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, গাছের মধ্যে এক ধরনের ধৈর্য রয়েছে, যা তাঁর নিজের মধ্যে সব সময় ছিল না। তাই গাছের বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে চান। তাঁর কাছে এটি মৃত্যুর পরও জীবনের বিভিন্ন রূপের সাক্ষী হয়ে থাকার একটি সুযোগ।
কিমের কাছে দেহকে জৈব সারে পরিণত করার ধারণাটি মোটেও অদ্ভুত বা হাস্যকর মনে হচ্ছে না। বরং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার বিষয়টি তাঁকে প্রশান্তি দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, দেহ থেকে তৈরি জৈব সার গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এভাবে মৃত্যুর পরও তাঁর অস্তিত্ব প্রকৃতির অংশ হয়ে থাকবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ‘আর্থ ফিউনারেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ব্যবস্থা করেছেন। মৃত্যুর পর তাঁর দেহ কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে, সে বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বন্ধু ও স্বজনদেরও একটি করে গাছ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে গাছ লাগানোই তাঁর বেশি পছন্দ, কারণ তিনি চান তাঁর বেড়ে ওঠার ধারণাটি যেন মৃত্যুর পরও থেমে না যায়।
উল্লেখ্য, কিম নোভাক ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বক্স অফিসের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ছিলেন। ১৯৬৬ সালে হলিউডের অভিনয়জগৎ থেকে সরে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগ দেন। পরবর্তীতে ছবি আঁকাকে নিজের ভাবনা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। চলচ্চিত্রের পরিচয়ের বাইরেও নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব তুলে ধরতে চান এই অভিনেত্রী। মৃত্যুর পর জৈব সার হয়ে গাছের মধ্যে বেঁচে থাকার ইচ্ছা সেই ভাবনারই অংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন