প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় যেন পুরোনো দুঃস্মৃতিই ফিরে এসেছে। গতকাল রাতে উয়েফা নেশনস লিগে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে ইতালি।
এটি ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনির জন্য দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতে হতাশার একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তবে, একটি হার দিয়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংকটের ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। সমস্যার শিকড় আরও গভীরে নিহিত রয়েছে।
তরুণদের খেলার সুযোগ কম
ইতালির ঘরোয়া ফুটবলে তরুণদের নিয়মিত খেলার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিরি ‘আ’-তে ইতালির জাতীয় দলের জন্য যোগ্য অনূর্ধ্ব-২১ খেলোয়াড়দের ‘ম্যাচ টাইম’ পর্যবেক্ষণ করা লিগগুলোর মধ্যে খুবই কম—মাত্র ১.৯ শতাংশ।
বিদেশি খেলোয়াড়ের আধিক্য
সিরি ‘আ’-তে বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এফআইজিসির হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মৌসুমে সিরি ‘আ’-তে জাতীয় দলে খেলার যোগ্য নয় এমন বিদেশি খেলোয়াড়েরা মোট খেলার ৬৭.৯ শতাংশ মিনিট মাঠে ছিলেন। ফলে ইতালিয়ান তরুণদের মাঠে থাকার সুযোগ কমে গেছে।
প্রতিভা আছে, কিন্তু পরিচর্যার ঘাটতি
মানচিনি কয়েক বছর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ইতালিতে প্রতিভার সংকট তেমন নেই, কিন্তু পরিচর্যার অভাব রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তরুণদের মেলে ধরার সুযোগ না দেওয়া।
অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সংকট
ইতালির স্টেডিয়াম ও ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি পেশাদার ফুটবলে বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি ও ঋণ পরিশোধের চাপও রয়েছে।
জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও তারকার অভাব
ইতালি জাতীয় দলে অনেক দিন ধরেই কিংবদন্তিতুল্য বা বড় মাপের তারকা ফুটবলার নেই, যাদের তরুণরা অনুসরণ করতে চাইবে। উদাহরণস্বরূপ, জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার কথা বলা যেতে পারে। এই গোলকিপারকে বর্তমানে জাতীয় দলের বড় তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এক দশক ধরে দেশের জার্সি গায়ে জড়ালেও তিনি একবারও দলকে বিশ্বকাপে তুলতে পারেননি। ২০২১ সালে ইউরো জয় ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সাফল্য বলতে গেলে নেই বললেই চলে।
কোচ নিয়োগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল
ইতালির ফুটবলে মাঠের বাইরের অস্থিরতা সংকটকে আরও বাড়িয়েছে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগ নিয়ে ফেডারেশনের ভেতরে মতবিরোধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আন্দ্রেয়া পিরলোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার কারণে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে ফেডারেশনের কারিগরি পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পাওলো মালদিনি। পরে মানচিনিকে ফেরানো হয়েছে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। তবে কোচ পরিবর্তনের পরেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতা না থাকার কারণে বারবার নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে ইতালিকে। এর প্রভাব পড়ছে খেলোয়াড় নির্বাচন, কৌশল এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন