প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ৫৫ হাজার ৬১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী পৌঁছেছেন। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার পরিকল্পনার কারণে এ শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিদেশে যাওয়া মোট ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৭ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশের গন্তব্য ছিল সিঙ্গাপুর। এ সময় সৌদি আরব ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৫ কর্মী নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
আরো পড়ুন
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু : মীর শাহে আলম
এক প্রতিবেদনে টিবিএস জানায়, গত কয়েক বছর ধরে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে সেখানে ৬৪ হাজার ৩৮৩, ২০২৩ সালে ৫৩ হাজার ২৬৫, ২০২৪ সালে ৫৬ হাজার ৮৪৭ এবং ২০২৫ সালে ৭০ হাজার ৮৩২ জন বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে গেছেন।
ওমান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বড় শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিত থাকায় সিঙ্গাপুরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
শ্রমবাজারের পাশাপাশি রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবেও সিঙ্গাপুরের গুরুত্ব বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে ৯৮ কোটি ৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪৯ কোটি ডলারে। এর ফলে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর দশম বৃহত্তম উৎসে পরিণত হয়েছে।
আরো পড়ুন
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু : মীর শাহে আলম
গত ২৩ আগস্ট ন্যাশনাল ডে র্যালিতে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, বিদেশি জনশক্তিকে স্বাগত জানানো হবে, তবে তা ‘সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে’ হবে। তিনি জানান, আগামী বছরগুলোতে দেশটির মোট জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি ধীর হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তবে মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, সিঙ্গাপুর বিদেশি কর্মী নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করবে এমন আশঙ্কার কারণ নেই। তার মতে, দেশটির অর্থনীতির জন্য অভিবাসী শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্বল্প ও অর্ধদক্ষ কর্মীর চাহিদা কমে দক্ষ ও উচ্চ দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
সিঙ্গাপুরে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। আনুমানিক দুই লাখ বাংলাদেশি নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ ও বাগান পরিচর্যার মতো কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
সিকদার বলেন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সিঙ্গাপুরে যেতে বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি নিশ্চিত করতে তাদের ১৪ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, সিঙ্গাপুরের ছয়টি কোম্পানি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত ব্যয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হওয়ার কথা হলেও কর্মীদের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আরো পড়ুন
বাগানে হাসনাহেনা বা জুঁই গাছ থাকলে কি সত্যিই সাপ আসে?
সিঙ্গাপুরের নির্মাণ খাত এখনও বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে খাতটির প্রবৃদ্ধি ১১.৮ শতাংশ হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ হয়েছে।
তবে সিঙ্গাপুরে যাওয়া কর্মীদের সবাই নতুন অভিবাসী নন। কর্মী পাঠানো এজেন্সিগুলোর সংগঠনের সাবেক মহাসচিব আহমেদ চৌধুরীর মতে, অনেক কর্মী চুক্তি শেষে দেশে ফিরে নতুন ভিসা বা ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আবার সিঙ্গাপুরে যান। ফলে বিএমইটির পরিসংখ্যানকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সংখ্যা হিসেবে সরাসরি বিবেচনা করা ঠিক নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন