প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনা পৌর শহরের নিজ বাসার ভেতরে মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামের একজন গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক রিকশাচালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছেলে এবং স্বামী গুরুতর আহত হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (১ জুন) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে পৌর শহরের কাটলী এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত রিকশাচালক আব্দুর রশিদকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জেলা শহরে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মনোয়ারা বেগম কাটলী এলাকার আবু চান মিয়ার স্ত্রী। আটক করা আব্দুর রশিদও একই এলাকার বাসিন্দা।
হামলায় গুরুতর আহত আবু চান (৬০) এবং তার ছেলে মুন্না মিয়াকে (২৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে。
নিহতের মেয়ে লিজা মণি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, রাত ৯টার দিকে তিনি যখন বাসায় ফিরে আসেন, তখন প্রধান দরজা খোলা পান। ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি দেখতে পান যে তার বাবা এবং ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছটফট করছেন।
এসময় ঘরের মধ্যে অভিযুক্ত রশিদ মিয়া অবস্থান করছিলেন। লিজা মণির চিত্কার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত এসে রশিদকে ঘরের মধ্যে আটকে ফেলেন। পরে ঘরের ভেতরের খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লিজা আরো জানায়, আব্দুর রশিদ তাদের পূর্বপরিচিত। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। তবে তার আচরণ নিয়ে পরিবার সদস্যদের আপত্তি ছিল।
স্থানীয়দের বরাতে নেত্রকোণা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, ঘটনার সময়ে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলাকারী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং পরে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এসময় ছেলে মুন্না মিয়া ঘরে ঢুকে বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বৃদ্ধ আবু চানও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের শিকার হন।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে বাসার ভেতরেই আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে মুন্না মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন