প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাও প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে প্রাথমিকভাবে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় ও নাইম আহমেদ সজিব।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ওইদিন রাত ১১টার দিকে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ফোন করে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রায় ৪০ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়, পরে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘ফরমাল পরিচয়’ ও ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে গালাগাল, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. এহসানুল হক বলেন, ‘আমাদের মা-বাবাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং ফরমাল পরিচয়ের নামে আমাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে জাকসুর নেতা মোহাম্মদ আলী চিশতী, হুসনে মোবারক এবং প্রক্টরিয়াল টিম আমাদের উদ্ধার করেন।’
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং অ্যান্টি-র্যাগিং সেলের সদস্য হুসনে মোবারক বলেন, ‘রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে আমি ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সহকারী প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, রাত ২টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা অফিসে এনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন