প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নতুন দায়িত্ব পাওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেনো রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করা হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬ : অংশীদারিত্ব, স্বীকৃতি ও প্রতিশ্রুতির এক সম্মিলন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং মিয়ানমারের উপর অর্থবহ চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন ও রোহিঙ্গাদের জন্য অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বোঝা বহনে সহায়তা করার জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে কোনোভাবেই একটি বিস্তৃত সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার এই সংকটের সমাধানকে আমাদের বৈদেশিক নীতির একটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, এটি কেবল মানবিক সহায়তার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়, বরং আমরা রোহিঙ্গা সংকটের এক টেকসই ও স্থায়ী সমাধান অর্জনে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমান বলেন, এই মানবিক সংকটের নয় বছর কেটে গেছে। গতানুগতিক ধারায় আমরা এই সংকটকে সামনের বছরগুলোতে মোকাবিলা করতে পারব না। মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসছে এবং বিশ্বের মনোযোগ এই সংকট থেকে অন্যদিকে সরে যাচ্ছে। সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। এই সংকটের টেকসই সমাধান এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী লাকি করিম বলেন, যে কোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে মিয়ানমারের রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য। যতদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হবে, ততদিন বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানবিক সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরশীলতা কমে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন