প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মধুবাগের ছোট্ট একটি খুপরি ঘরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস উম্মে সালমার। তার বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করেন এবং মা নাজমা বেগম মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন।
অর্থের অভাব থাকা সত্ত্বেও সালমার পড়াশোনা থেমে থাকেনি। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি এ প্লাস পেয়ে সফল হয়েছেন। তার স্বপ্ন হলো চিকিৎসক হওয়া। তবে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় ছিলেন
সালমার এই অবস্থার কথা জানার পর ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সালমার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করা হয়েছে।
সম্প্রতি উম্মে সালমার ভালো ফলাফল এবং আর্থিক সংকটের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসএসসিতে এ প্লাস পেলেও অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে সালমা অনিশ্চয়তায় ছিলেন। জেলা প্রশাসকের নজরে বিষয়টি আসার পর তিনি সহযোগিতার উদ্যোগ নেন।
উম্মে সালমার বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করে সংসার চালান। তার স্ত্রী নাজমা বেগম মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন। তাদের সামান্য আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে এর মধ্যেই তারা মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছিলেন। মিরাজ আলী বলেন, "চা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। মেয়ের এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ায় আমি খুব খুশি। তবে কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কিভাবে চালাবো, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। জেলা প্রশাসক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।"
নাজমা বেগম বলেন, "আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সালমার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। আমরা চাই, কোনোভাবেই যেন মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ না হয়। জেলা প্রশাসক পাশে দাঁড়ানোর কারণে আমরা এখন অনেকটা আশ্বস্ত।"
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, "অদম্য মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে আর্থিক সংকট কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না। উম্মে সালমা প্রতিকূলতার মধ্যেও এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছেন, যা তার মেধা ও পরিশ্রমের প্রমাণ। তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের কথা জেনে জেলা প্রশাসন পাশে দাঁড়িয়েছে।"
ফরিদা খানম আরো বলেন, "কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সমাজের কোনো মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।"
তিনি বলেন, "উম্মে সালমার মতো শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। আমি আশা করি, সালমা একদিন তার স্বপ্ন পূরণ করে একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন