প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের ফলে সমাজতান্ত্রিক কিউবার জ্বালানি মজুদ প্রায় শূণ্য হয়ে গেছে। এর ফলস্বরূপ, সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ঘটে এবং গোটা কিউবায় অন্ধকার নেমে আসে।
নতুন করে কঠোর মার্কিন অবরোধের কারণে ন্যাশনাল ব্ল্যাকআউট এবার প্রথমবার হচ্ছে না। মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিকবার গোটা কিউবা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। গত মার্চ মাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত দুইবার সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট হয়েছিল।
বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক কিউবা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে আসছে। প্রতিবেশী পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে নানা ধরনের অবরোধ ও চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এই বছর তারা জ্বালানি অবরোধ শুরুর পাশাপাশি ব্যাপক চাপ অব্যাহত রেখেছে।
পূর্বে, কিউবা ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো মতো বন্ধু রাষ্ট্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করত, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে। সেখানে তারা ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল পেতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। বাড়তি শুল্ক আরোপের মার্কিন হুমকির কারণে মেক্সিকো বা অন্য কোনো দেশও কিউবায় তেল বিক্রি করতে পারছে না।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো দেশ থেকে সাধারণ নিয়মে জ্বালানি কেনার কোনো সুযোগ নেই কিউবার। এর ফলে দেশটি নজিরবিহীন দীর্ঘ জ্বালানি সংকটে পড়েছে। ২০/২২ ঘণ্টার লোডশেডিং এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সোমবার, কিউবার ন্যাশনাল গ্রিডে বিপর্যয় সৃষ্টি হলে পুরো কিউবা অন্ধকারে চলে যায়। কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কিউবার ন্যাশনাল গ্রিড সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা এই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার জন্য কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং জরুরি সেবার জন্য জরুরি ‘মাইক্রোসিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। সোমবার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জ্বালানি আমদানিতে বাধা দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন মূলত ‘অবরুদ্ধ করে সামাজিক বিস্ফোরণ’ ঘটানোর চেষ্টা করছে।
দ্বীপরাষ্ট্রটির বিদ্যুৎ সংকটের ফলে শিক্ষা, পরিবহন এবং চিকিৎসা সেবা সহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো কিউবার অর্থনীতিকে আরো দুর্বল করে তুলেছে এবং অনেক পর্যটককে দ্বীপে আসতে বাধা দিচ্ছে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্য হচ্ছে কিউবা সরকারকে তাদের কঠোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা শিথিল করতে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিতে বাধ্য করা।
গত মাসে কিউবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অর্থনীতি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপগুলো কোনো বহিরাগত বা বিদেশি চাপের মুখে নেওয়া হয়নি। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র এই সংস্কারগুলোকে অপর্যাপ্ত, লোক দেখানো এবং ভাসা ভাসা হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
অবশ্য, গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন ও কিউবান কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মে মাসে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ হাভানায় কিউবার গোয়েন্দা প্রধানদের সাথে বৈঠক করেন এবং মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার গুয়ান্তানামো বে নৌঘাঁটির সীমানায় কিউবার সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্বীপে রাশিয়া ও চীনের নজরদারি কেন্দ্র স্থাপন এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুন্ন করার অভিযোগ এনেছে। তবে কিউবা এই দাবিগুলি অস্বীকার করেছে।
কিউবার বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা দ্বীপের মানবিক সংকটের বিবরণ দিতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তির অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের জনগণের সাথে যা ঘটছে, তা একটি গণহত্যা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন