প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চুরি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে, যেখানে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, চিত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি অথবা ডুপ্লিকেশন, অবিশ্বস্ত ফলাফল অথবা উপসংহারসহ নানা অনিয়ম হয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজে অনুসন্ধান করলে এ তালিকা পাওয়া যায়। তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. সাদেক আলী, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল এবং ড. মো. সজিব আলীসহ একাধিক বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন গবেষকদের নাম রয়েছে।
বৈশ্বিক জার্নাল সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২শতাংশ গবেষকের তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমানের ২টি গবেষণাপত্র রয়েছে।
মোট ১৩টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে ১২টি পিয়ার রিভিউড জার্নাল আর্টিকেল এবং একটি রিট্রেকটেড প্রিপ্রিন্ট। ১২টি জার্নাল আর্টিকেল ভিন্ন ভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে; ২টি প্রিপ্রিন্ট রিসার্স স্কয়ারে পোস্ট করা হয়েছে। লেখকভিত্তিক হিসাবে ১৩টি পৃথক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত পরিচয় এবং ১৭টি লেখক-রেকর্ড উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চারজনের ২টি করে রেকর্ড আছে এবং নয়জনের একটি করে রেকর্ড রয়েছে।
বিভাগভিত্তিকভাবে গণিতে ৪টি, এনএফটি তে ৩টি, আইসিটি তে ২টি, সিএসই তে ২টি এবং বাকী তিনটি বিভাগীয় লেবেলে একটি করে রেকর্ড রয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২টি গবেষণাপত্র রয়েছে, যার দুইটি ড. হাবিবুর রহমানের (সহলেখক ইমরান হাসান)। এছাড়া গণিত বিভাগের ৪টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রের মধ্যে ড. মো. মোস্তফা কামালের ২টি এবং ড. মো. সজিব আলীর ২টি রয়েছে।
অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের ২টি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি ড. কামরুজ্জামানের এবং অপরটি আতিকুর রহমান ও সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের যৌথ একটি গবেষণাপত্র। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমান ও আসিফ ইকবালের যৌথ ১টি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ৩টি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি শিক্ষার্থী এন. গাফারের এবং অপর দুটি বিভাগের শিক্ষক ড. মো. সাদেক আলীর।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা কাজ করে তাদের ত্রুটি বিচ্যুতি হয়, আর যারা কাজ করে না তাদের ভুল ত্রুটির সম্ভবনা থাকে না। গবেষকদের উৎসাহিত করা উচিত। কিন্তু কেউ যদি জেনে শুনে অন্যের লেখা চুরি করে বা বিভিন্ন মাধ্যমে কপি করে চালিয়ে দেয়, তাহলে তা আগামী প্রজন্মের জন্য হুমকি হতে পারে। রিসার্স পেপারগুলো দেখেই জীবনের উৎকর্ষতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে ভুল গবেষণার ফল আমাদের সমাজে বা বায়ুমণ্ডলে (বৈজ্ঞানিক) ভুল কিছু বয়ে আনতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন