প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, এসএমই ও কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচার রোধসহ ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক এ আয়োজনে প্রথম পর্বে প্রণোদনা প্যাকেজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে আটটি বিভাগের ৬৪টি উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন উদ্যোক্তা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হবে। ধারাবাহিকভাবে পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তার চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর ৫০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে থাকবে। ঋণের সুদের হার হবে ৪ থেকে ৭ শতাংশ।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের সারা জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা থাকে, অথচ ঋণখেলাপিরা সেই অর্থ আত্মসাৎ করেন। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ঋণখেলাপি হওয়ার সাহস না পান। ময়মনসিংহে বড় বড় পুকুর ও মাছের খামার রয়েছে। এ অঞ্চলে মৎস্য প্রজনন ও উৎপাদন আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। সরকারি প্রকল্পে তৃতীয়-চতুর্থ স্তরের ঠিকাদারি কমিয়ে কাজের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ময়মনসিংহে চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই ঝুঁকিপূর্ণ ও নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে একাধিক বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও অর্থ লোপাট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর নিষ্ক্রিয় আমানত ব্যবহার করে ৪ শতাংশ সুদে তহবিল দেওয়া হচ্ছে। এসব তহবিল এসএমই ও কৃষি খাতে ৭ থেকে ৮ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হবে। খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার রোধে ছয় মাসের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তির সুযোগ রেখে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট’ ও ‘মানি লোন কোর্ট অ্যাক্ট’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও ফ্রিজ করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুক্তি করা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ১১টি বিশেষ যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে নতুন তহবিল চালুর প্রক্রিয়াও চলছে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ৫০ শতাংশ অনুদান এবং ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি খাতের সফল উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ময়মনসিংহের উদ্যোক্তাদের ব্যাংক খাত থেকে যথাযথ সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়নে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখানোই এ আয়োজনের সার্থকতা। এ অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঋণ সরবরাহের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন