প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুপার এল নিনো প্রকৃতির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জলবায়ুগত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, আবারও তৈরি হচ্ছে এমন এক সুপার এল নিনো, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। সেই হুমকি মোকাবিলায়, বিজ্ঞানীরা এবার সূর্যের আলো সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়ার মতো বিতর্কিত এক ধারণা নিয়ে গবেষণা করছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, এবারের সুপার এল নিনো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এই শঙ্কার মধ্যে, আলোচনায় এসেছে বিতর্কিত একটি ধারণা। সেই ধারণা হলো, সূর্যের কিছু আলো সাময়িকভাবে পৃথিবীতে পৌঁছাতে না দিয়ে এল নিনোর তীব্রতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাধারণত, এল নিনো তৈরি হয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা থেকে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ে, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি এবং বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা ‘মেরিন ক্লাউড ব্রাইটেনিং’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতির পরীক্ষা করেছেন। এই পদ্ধতিতে সমুদ্রের উপরে মেঘে সূক্ষ্ম কণা ছড়িয়ে দেয়া হয়, যাতে মেঘ আরও বেশি সূর্যালোক প্রতিফলিত করতে সক্ষম হয় এবং ফলে পৃথিবীতে কম তাপ পৌঁছায়।
গবেষকরা বাস্তবে এমন কোনো পরীক্ষা চালানোর পরিবর্তে, ২০১৯-২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া থেকে তৈরি হওয়া প্রকৃতিক পরিস্থিতির তথ্য ব্যবহার করেছেন। তাদের জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, সঠিক সময়ে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে গবেষকরা বলছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট সমাধান নয়, বরং সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক ধাপ। কারণ, এল নিনো দুর্বল করতে গিয়ে বিপরীতভাবে লা নিনার প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য অঞ্চলে নতুন আবহাওয়া সংকট দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও এখনও তৈরি হয়নি। এর সঙ্গে পরিবেশগত, রাজনৈতিক এবং নৈতিক বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। তাই বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এল নিনোর ক্ষতি কমানোর উপায় হিসেবে বিষয়টি আরও গভীর গবেষণার দাবিদার, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর বিকল্প এটি নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন