প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় এডিপির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সরকারি উপকরণ বিতরণে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম একজন শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি বাইসাইকেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন। পাশাপাশি, অন্যান্য সরকারি উপকরণ বিতরণে অনিয়ম রয়েছে কি না, তা তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এডিপির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন উপকারভোগীর মধ্যে বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, ছাগল, ফুটবল এবং হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। তবে এই বিতরণে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের ভিত্তিতে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ হলেও সেটি তাকে না দিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, পরে সেটি তার নাতনিকে প্রদান করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম জানিয়েছেন যে, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রাথমিকভাবে তিনি পাননি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর বুধবার সাইকেলটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, শুধু বাইসাইকেল নয়, সরকারি বরাদ্দের সেলাই মেশিন, স্প্রে মেশিন এবং অন্যান্য উপকরণও কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে, মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমদিকে দাবি করেছিলেন যে, সাইকেলটি প্রতিবেশী এক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছিল। তবে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ার পর সেটি প্রশাসনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল মন্তব্য করেছেন যে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি সম্পদ বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়টি ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসলে তার পরামর্শে বুধবার দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী বলেন, বাইসাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি ফেরত নেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন এবং অন্যান্য সরকারি উপকরণ বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করার কাজ চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন