প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে অভিযোগ উঠেছে, মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন এক নারীকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে মারছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উপলক্ষে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনা সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বলাকিয়া গ্রামে পরকীয়া-সংক্রান্ত একটি সালিশ বৈঠকে ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন চুলের খোঁপা ধরে নারীর দিকে জুতা নিয়ে মারছিলেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর স্পষ্ট হয় যে, মাধবপুর ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের সবজি বিক্রেতা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে নারীর পরকিয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিকেলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই নারী ও সংশ্লিষ্ট পুরুষকে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।
তবে দেখা যায় যে, সংশ্লিষ্ট পুরুষের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি পাঠানো হয়নি বা এর কোনও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েনি। অন্যদিকে, নারীকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, ভিডিওটির কারণে শুধু ওই নারীই নয়, তার পরিবারের সদস্যরাও সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করে জানান যে, ওই নারী প্রবাসী স্বামীর সংসারে থাকতে অবস্থায় পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন গভীর রাতে তাদের হাতেনাতে আটক করার পর, পরদিন সালিশ বৈঠকের আয়োজন হয়।
তিনি দাবী করেন যে, সালিশ বৈঠকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদের সুরক্ষা দিতে স্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শে ওই শাস্তি প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন যে, ঘটনা তার নজরে এসেছে এবং ওই নারীকে কেন এভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তা তদন্ত করবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন