প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। উপাচার্য পরিবর্তনের কারণে আন্দোলনের ফলে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে এই অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গত ৫৭ দিনের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তন হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে এ কমিটি গঠন করা হয়।
গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়ে এই কমিটি গঠনের আহ্বান জানায়। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল ফোরকান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ইউসুপ ইলাহী চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী এবং ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান (সদস্যসচিব)। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ইউজিসির সহকারী পরিচালককে রাখা হয়েছে।
ইউজিসি সূত্র জানায়, কমিটিকে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন গণমাধ্যমকে জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি গঠনের বিষয়ে অবগত হয়েছেন। অফিসিয়াল চিঠি হাতে পেলেই তারা দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করবেন।
গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি জরুরি চিঠি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কিন্তু মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ওই রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা আগের উপাচার্যের বহালের দাবি জানান। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এক পর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এসব ঘটনার কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন