প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদেশি শক্তির কাছে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে সাবেক জার্মান গোয়েন্দাপ্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও রয়েছে। এই তথ্য জার্মানির ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিসের একটি বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির বিখ্যাত ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, হ্যানিং এই অপরাধচক্রে একা ছিলেন না। অর্থের বিনিময়ে প্রায় ২,০০০ সংবেদনশীল ও অত্যন্ত গোপনীয় নথি পাচারের অভিযোগে ম্যানফ্রেড ডি নামের বিএনডির এক সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ম্যানফ্রেড ডি একসময় হ্যানিংয়ের ব্যুরোপ্রধান ছিলেন এবং ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিএনডির প্রধানদের চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য রাখা চরম গোপনীয় এসব নথি সংগ্রহ করেন এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে হ্যানিংয়ের হাতে তুলে দেন।
সরকারি আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যানফ্রেড ডি-এর কাছ থেকে পাওয়া এসব গোপন গোয়েন্দা তথ্য হ্যানিং ব্যবহার করে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষ বিশ্লেষণমূলক রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। এছাড়া, তিনি অন্য একটি বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার প্রতিনিধির সাথে বছরের পর বছর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং তাদের রাজনৈতিক তথ্য সরবরাহ করেন। তবে কোন কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বা বিদেশি শক্তি এতে জড়িত ছিল, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।
একটি ভিন্ন মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে হ্যানিংয়ের কাছে এসব গোপন নথি থাকার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। জার্মান স্টেকহাউসের উত্তরাধিকারী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত চলাকালে পুলিশ একটি ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করে। সেটি পরীক্ষা করতেই বের হয়ে আসে সম্প্রতি সংগৃহীত বিএনডির একের পর এক সংবেদনশীল নথি।
জার্মান পুলিশ হ্যানিংকে মুনস্টারের নিকটবর্তী নর্ডওয়াল্ডের বাড়ি থেকে এবং ম্যানফ্রেড ডি-কে বাভারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ইতিমধ্যে ম্যানফ্রেড ডি ও হ্যানিংকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থায় এমন রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৩ সালেও কার্স্টেন এল নামের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপ সম্পর্কিত তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচার করে প্রায় ৪ লাখ ইউরো হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছিল, যা এখনো চলমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন