প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরে বাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম আনন্দ উৎসব নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আবহমানকাল থেকে বাংলার ঐতিহ্যের এই নৌকা বাইচ অনেকের কাছে একটি আনন্দের উৎসব। আবেগ-উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নৌকা বাইচ হয়ে ওঠে মানুষের মনের মধ্যে আনন্দের একটি বিস্ফোরণ।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে, নদীর তরঙ্গভঙ্গ নিয়ে মানুষের শৈশব ও পরিবেশের সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। নদীর বুকে নৌকা কেবল চলাফেরার মাধ্যম নয়, বরং এটি এখানে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত খেলার অংশ। এই পরিস্থিতিতে, একটি দৃষ্টিনন্দন ও রোমাঞ্চকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
‘বাইচ’ শব্দটি ফরাসী। ফরাসীদের সময় এই খেলার উৎপত্তি হলেও এর আধুনিক গন্ধ যুক্ত হয় ব্রিটিশদের সময়। পরে এটি ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বত্র এটি জনপ্রিয় হতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায়, এই অঞ্চলে নৌকা বাইচ আপামর মানুষের মধ্যে একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা হিসেবে স্থান করে নেয়।
বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহাসিক খেলাগুলোর মধ্যে নৌকা বাইচ অন্যতম। প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২০০০ বছর আগে ‘মেসোপটেমিয়ার’ লোকেরা ইউফ্রেটিস নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করত। পরে মিসরের নীল নদের জলে নৌকা প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। তারপর এটি বিশ্বজুড়ে প্রসারিত হতে থাকে। অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখনো জনপ্রিয়। ১৯০০ সাল থেকে অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩৫টি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার যুক্তরাষ্ট্র, ২৫ বার জার্মানি এবং ১৪ বার যুক্তরাজ্য বিজয়ী হয়েছে।
বাংলাদেশে নৌকা বাইচ গণবিনোদন হিসেবে কবে শুরু হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও তিনটি বিষয়ে জনশ্রুতি রয়েছে। প্রথমত, অনেকে করেন, মুসলিম যুগে নবাব-বাদশাহদের আমলে নৌবাহিনী গঠনের সময় নৌকা বাইচের সূচনা হয়। প্রতি বৎসর নৌবাহিনীর মহড়া উপলক্ষে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
দ্বিতীয়ত, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে যে, জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে নৌকা বাইচের উৎপত্তি ঘটে। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার সময়ে প্রচুর নৌকা দেখা যেত এবং এর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হতো, যা পরে নৌকা বাইচে রূপ নেয়। তৃতীয়ত, ১৮ শতকের শুরুতে মুসলিম সম্প্রদায়ের গাজী পীর মেঘনা নদীর এক পাড়ে দাঁড়িয়ে তার ভক্তদের আহ্বান জানান। ফলে ভক্তরা একটি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে নদীর মাঝখানে এসে হাজির হয়, তখন নদী ফুলেফেঁপে উঠে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অন্যান্য নৌকাগুলো ছুটে আসে এবং সিরিজে নৌকাগুলো একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দেয়। এ থেকেই নৌকা বাইচের যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা।
প্রমত্ত নদীর পারে সঙ্গীতের তাল লয়ের সঙ্গে দাঁড়ীদের ছন্দময় নিক্ষেপে নদীজলে যে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, তা অতুলনীয়। মাঝিদের জয়ধ্বনির সঙ্গে যে তাল মিলিয়ে বৈঠার টানে পানিতে এক অপূর্ব শব্দ সৃষ্টি হতে থাকে।
জামালপুর জেলার ইসলামপুরে ঐতিহ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর এই স্থানটি হারানো ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা প্রতিবছর রেকর্ড পরিমাণ দর্শক সমাগম হওয়ায় এই উৎসব আয়োজন করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট/২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাস্টারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন আলকাছুর রহমান বিল্লাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাজল মৃধা এবং গোয়ালেরচরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে ছাত্রদল, যুবদলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। খেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন গোয়ালেচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের আশার আলো, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন উপজেলার চড় গোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের আনন্দ তরী সংগঠন এবং তৃতীয় স্থান দখল করেন বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলোক্ষিয়া গ্রামের একতা সংঘ। এরপর প্রধান অতিথি প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি মোটর সাইকেল, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি গরু এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি এলইডি টিভি বিজয়ীদের হাতে প্রদান করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন