প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও পানি ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে আন্তঃসরকারি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইসরাইল।
এই তথ্য বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে।
ইসরাইল প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে। গত মাসে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করেছে। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে পবিত্র নগরী জেরুজালেমে ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটি অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি।
ওয়েলিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।
জাতিসংঘে জেরুজালেমে দূতাবাস থাকা মাত্র সাতটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে পাপুয়া নিউগিনি ও ফিজিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। এ বছরের শেষের দিকে সামোয়া তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
১৮টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরাম বর্তমানে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টি দেশ ও সংস্থা ফোরামের তথাকথিত উন্নয়ন অংশীদার।
প্রভাবশালী দেশগুলো যখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, তখন গত মাসে ফোরামের নেতারা অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো সংস্কারের বিষয়ে সম্মত হন। নতুন কাঠামোয় কৌশলগত অংশীদার ও খাতভিত্তিক অংশীদার— এই দুই শ্রেণি রাখা হয়েছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটি খাতভিত্তিক অংশীদার হিসেবে ফোরামে যুক্ত হয়েছে। এই ঘোষণার সময় ইসরাইলের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা মাসাভের (এমএএসএইচএভি) প্রধান আইনাত শ্লেইন ফিজি ও সামোয়া সফর করেন।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আঞ্চলিক অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে এই সহযোগিতার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পানি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে ইসরাইলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।’
ফোরামের পক্ষ থেকে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো অনুরোধের প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেওয়া হয়নি।
গত জুনে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ফিজির রাজধানী সুভায় ফোরামের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অগ্রাধিকারগুলোর একটি।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে ফিজিতে দূতাবাস খুলেছে ইসরাইল। এই দূতাবাসটি ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরও নয়টি দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্বও পালন করছে।’
ফোরামটি ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, মাসাভের প্রধান শ্লেইনের সঙ্গে বৈঠকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের উন্নয়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।
এছাড়া জ্ঞান বিনিময় ও অংশীদারত্বের বাস্তব সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো প্রায়ই ইসরাইলের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থকদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করেছে।
এ অঞ্চলের অনেক মানুষের মধ্যে ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতি গভীর বিশ্বাস রয়েছে। ওই ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ইহুদিরা একদিন ইসরাইলের ভূখণ্ডে ফিরে আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন