প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধি-নিষেধ কার্যকর হয়েছে।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই নতুন নিয়ম চলতি জুন মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোররা কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।
এর ফলে মালয়েশিয়া সেইসব দেশের তালিকায় যুক্ত হলো, যারা শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বয়সের সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে। সরকার জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, জ্ঞানীয় বিকাশ এবং সামগ্রিক সুস্থতার কাছে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা এখন একটি উদ্বেগজনক বিষয়।
নতুন নিয়মে মালয়েশিয়ায় অন্তত ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে এমন প্ল্যাটফর্ম—যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটক—এর ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য করা হয়েছে। ১৬ বছরের নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের তথ্য ডাউনলোড করার সুযোগ দিয়েই অ্যাকাউন্ট সীমিত করা হবে।
নিয়ম অমান্য করলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। মালয়েশিয়া সরকার বলেছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা নয়, বরং সাইবার বুলিং, ক্ষতিকর কনটেন্ট, অনলাইন শিকারি, আসক্তিমূলক ডিজিটাল নকশা এবং অন্যান্য অনলাইন ঝুঁকি থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়া।
বিশ্বজুড়ে নীতি কঠোর হচ্ছে। মালয়েশিয়ার এ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে। সেক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের জরিমানা রাখা হয়েছে।
ব্রাজিলে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার নিয়ম রয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও ২০২৬ সালের মার্চ থেকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের নিচের শিশুদের প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাজ্য ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে জনমত সংগ্রহ করছে। ফ্রান্স ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, আর স্পেন ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের জন্য অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা চালুর পরিকল্পনা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ডেনমার্কও শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নীতিমালা বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কারণে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আত্মসম্মানবোধের হ্রাস, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা, ঘুমের সমস্যা, সাইবার বুলিং এবং শিক্ষাগত পারফরম্যান্সের অবনতি হতে পারে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের কার্যালয় সতর্ক করে বলেছিল যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য 'গভীর ক্ষতির ঝুঁকি' তৈরি করতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় জামা সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গবেষকরা বলেন, অসীম স্ক্রলিং, অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্ট সুপারিশ, নোটিফিকেশন এবং লাইক-ভিত্তিক ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়।
ভারতের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পদক্ষেপের দাবি উঠছে। ভারতে বর্তমানে ৯০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যার একটি বড় অংশ শিশু ও কিশোর। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশাদের মধ্যে উদ্বেগ, মনোযোগের ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা এবং ডিজিটাল আসক্তির প্রবণতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করছেন।
এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ ভারতের জন্যও বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই, অভিভাবকের সম্মতি, শিশুদের জন্য ডিফল্ট গোপনীয়তা সুরক্ষা, ব্যবহার সময়ের সীমা এবং অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা না হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আজকের দিনে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন