প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হায়দরাবাদের একদল বাউন্সার অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নবরাত্রি উদযাপনের ‘ডান্ডিয়া’ অনুষ্ঠানগুলোতে মুসলিম পেশাজীবীদের কাজ দেওয়া থেকে বিরত থাকা হচ্ছে। এই ধর্মভিত্তিক বৈষম্যের কারণে তাঁরা কাজের সুযোগ ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা করছেন।
বাউন্সারদের ২০০ সদস্যের একটি দলের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফিরোজ জানিয়েছেন, শহরের বেশ কিছু ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে তাঁর সহকর্মীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এসব কাজে মুসলিমদের আর রাখা হবে না।
দ্য হিন্দু-কে ফিরোজ বলেন, “আগে আমরাই শহরের বেশিরভাগ ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের বাউন্সার নিয়োগের চুক্তি পেতাম। কিন্তু এই বছর আমার অনেক সহকর্মীকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ডান্ডিয়া আয়োজনে বাউন্সার হিসেবে মুসলিমদের গ্রহণ করা হবে না।”
১০ জন সদস্যের একটি দলের প্রধান ফিরোজ জানিয়েছেন, তাঁর দলের সবাই যে মুসলিম—তা নয়। তবে উৎসবের এই মৌসুমে তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য সহকর্মীদের বেতন দেওয়া তাঁর পক্ষে কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ফিরোজ জানিয়েছেন, বাউন্সারদের প্রধান দায়িত্ব হলো ভিড় সামলানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানের মূল অংশে প্রবেশ করা কিংবা অতিথিদের সঙ্গে কোনো রকম মেলামেশা বা কথাবার্তা বলার বিষয় তাঁদের কাজে থাকে না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাজের মূল বিষয় হলো ভিড় সামলানো এবং সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর জন্য কেবল একটি ভালো ব্যক্তিত্ব, শারীরিক গঠন ও পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। আমরা এমনকি ভেতরের মূল ভেন্যু তেও প্রবেশ করি না বা অতিথিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনও হয় না।”
হায়দরাবাদের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ‘গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি’র কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এই শহরের ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। “হায়দরাবাদ কোনোদিনই এমন ছিল না। এখানকার পরিচয় গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির সম্প্রীতির জন্য। এমন দৃশ্য সত্যিই অভাবনীয় ও অদ্ভুত,” যোগ করেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বাউন্সার হিসেবে কর্মরত সালিগে প্রভাকর জানিয়েছেন, ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের বুকিং সাধারণ নিয়মে অন্তত এক মাস আগেই শুরু হয়ে থাকে। তিনি বলেন, “হায়দরাবাদে হাজার হাজার ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয় এক মাস আগে থেকেই। অথচ এবার অনেক আয়োজকই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের অনুষ্ঠানে কোনো মুসলিম বাউন্সার রাখা যাবে না।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের বৈষম্যের ফলে কেবল মুসলিম বাউন্সাররাই ক্ষতির মুখে পড়বেন না, বরং তাঁদের অধীনে থাকা অ-মুসলিম সহকর্মীরাও তাঁদের কাজ হারাবেন।
‘২০২৪ সাল থেকেই এই বৈষম্যের সূচনা’
সালিগে প্রভাকরের দাবি, এই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৪ সাল থেকে সীমিত পরিসরে, যা এ বছর এসে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে এই বৈষম্যটি খুব ছোট পরিসরে শুরু হলেও, এবার তারা খোলাখুলিভাবেই বলছে—‘কোনো মুসলিমদের নেওয়া হবে না’।”
প্রভাকর আরও উল্লেখ করেন, বেশ কিছু আয়োজক নিরাপত্তা কর্মীদের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ‘ফোটা’ বা ‘টিপ’ কপালে পরতে বাধ্য করছেন। কেউ কেউ তা মেনে পরলেও অনেকেই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তা পরতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
তিনি জানান, হায়দরাবাদের বাউন্সারদের এক বড় অংশই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। ফলে তাঁদের এভাবে বাদ দেওয়া হলে ডান্ডিয়ার মতো বড় অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মূলত ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নাচ ‘ডান্ডিয়া’ বর্তমানে পুরো ভারতের বড় শহরগুলোতে বাণিজ্যিক আকারে বড় বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয়, যেখানে গান-বাজনা এবং তারকাদের উপস্থিতি থাকে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় তেলেঙ্গানা সরকার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্থানীয় পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাউন্সাররা, যাতে ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে জীবিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা হয়। ফিরোজ জোর দিয়ে বলেন, এটি দিনশেষে জীবন-জীবিকার বিষয়। তাই অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন