প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অস্ট্রেলিয়ায় আগস্ট মাসে কর্মসংস্থান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে একই সময়ে আরো বেশি মানুষ কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে আসায় বেকারত্বের হার বেড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুন
ওমানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ১ ভারতীয় নাবিক নিহত, উদ্ধার ১৯
রয়টার্স জানায়, শ্রমবাজারের এই মিশ্র চিত্রের পরও অস্ট্রেলিয়ার সুদের হার নিয়ে বাজারের ধারণায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগামী সপ্তাহে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে। এ বছর এটি হবে সুদের হার বাড়ানোর চতুর্থ দফা। বাজারে এখন প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা ধরে নেওয়া হচ্ছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে বাড়াবে। তবে কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর অস্ট্রেলীয় ডলারের দর কমেছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলীয় ডলারের মূল্য শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ অস্ট্রেলীয় ডলারে শূন্য দশমিক ৭০২৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। এটি প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে মুদ্রাটির সর্বনিম্ন দর। এর আগে রাতভরও অস্ট্রেলীয় ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল।
আরো পড়ুন
বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করলেন ভারতীয় উপকূলরক্ষী
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে দেশটিতে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে ৩৯ হাজার ৫০০টি। এর আগের মাস জুলাইয়ে কর্মসংস্থান ১৫ হাজার ৮০০টি কমেছিল। ফলে আগস্টের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি শ্রমবাজারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। আগস্টে কর্মসংস্থান ২০ হাজার বাড়বে বলে বাজারের পূর্বাভাস ছিল। বাস্তবে এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কর্মসংস্থান বেড়েছে। তবে সব ধরনের চাকরিতে বৃদ্ধি হয়নি। আগস্টে পূর্ণকালীন চাকরি কমেছে ৬ হাজার ৩০০টি। অর্থাৎ মোট কর্মসংস্থান বাড়লেও পূর্ণকালীন চাকরির সংখ্যা কমেছে। কর্মসংস্থান বাড়লেও আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। বাজারে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের শেষ দিকের পর এবারই দেশটিতে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
আরো পড়ুন
ওমানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ১ ভারতীয় নাবিক নিহত, উদ্ধার ১৯
এর একটি কারণ হলো, আরো বেশি মানুষ কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে যোগ দিয়েছেন। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আগস্টে শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার বেড়ে ৬৭ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এই হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সময়ে দেশটির কর্মীদের মোট কাজের সময়ও বেড়েছে। আগস্টে মোট কাজের সময় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান শন ক্রিক বলেন, আগস্টে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এমন মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল, যারা আগে শ্রমবাজারের বাইরে ছিলেন। পরে তারা কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে যোগ দিয়ে বেকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তার মতে, শ্রমশক্তির আকার বাড়ার কারণেই শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হারও বেড়েছে। অর্থাৎ আগস্টে বেকারত্বের হার বাড়ার পেছনে শুধু চাকরি কমে যাওয়ার বিষয়টি কাজ করেনি। বরং আগে কাজের বাইরে থাকা আরো বেশি মানুষ চাকরি খোঁজা শুরু করায় বেকারের সংখ্যা বেড়েছে।
আরো পড়ুন
বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করলেন ভারতীয় উপকূলরক্ষী
অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, দেশটির শ্রমবাজার কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে শ্রমবাজার এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মিশেল বুলক চলতি সপ্তাহে বলেছেন, বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বর্তমান পর্যায় থেকে বেকারত্বের হার কিছুটা বাড়লেও সেটিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্রহণযোগ্য পর্যায় হিসেবে দেখা হতে পারে। মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছর এরই মধ্যে তিনবার সুদের হার বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে সুদের হার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মহামারির পর এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুদের হার। তবে সুদের হার বাড়ানোর পরও মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দেশটির মূল মূল্যস্ফীতির হার এখনো ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ থেকে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি বেশি।
আরো পড়ুন
বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করলেন ভারতীয় উপকূলরক্ষী
মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মিশেল বুলক সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগের বড় ধরনের বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এরই মধ্যে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠেছে। তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাতেও পরিবর্তন এসেছে। এখন বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় সুদের হার শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন