প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আপত্তির কারণে বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা বাতিল করেছে আইসিসি। ২০৩১ সালের আগে নতুন কোনো বহুদলীয় টুর্নামেন্টের আয়োজনও হবে না।
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টির আদলে বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ফেরানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের আপত্তির পর এই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে, ২০৩১ সালের আগে নতুন কোনো বহুদলীয় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অংশগ্রহণ করবে বলে পরিকল্পনা ছিল। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিতে আইপিএল, বিগ ব্যাশ লিগ এবং পাকিস্তান সুপার লিগের দলগুলো অংশ নিয়েছিল। তবে কম দর্শক, দুর্বল বাণিজ্যিক আয় এবং আর্থিক ক্ষতির কারণে টুর্নামেন্টটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ায় সেটি ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু ভারতের বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড নতুন টুর্নামেন্টের বিরোধিতা করেছে। তাদের মূল যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মিলিয়ে বর্তমান সূচিই অত্যন্ত ব্যস্ত। আইসিসির দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সময়েও চার-দলীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের বৃহত্তর পরিকল্পনায় তারা আপত্তি জানায়। নতুন প্রতিযোগিতার জন্য জায়গা তৈরি করতে বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো আইসিসি ইভেন্ট কমানোর প্রস্তাবও তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
আইসিসির জন্য এই বিষয়টি শুধুমাত্র একটি নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয় নয়, বরং রাজস্বের সঙ্গেও যুক্ত। বিশ্বের জনপ্রিয় বেসরকারি টি-টোয়েন্টি লিগগুলো থেকে সরাসরি আয় করার সুযোগ আইসিসির সীমিত। তাই প্রস্তাবিত বৈশ্বিক ক্লাব টুর্নামেন্টকে ফিফার ক্লাব বিশ্বকাপের আদলে ক্রিকেটে নতুন রাজস্ব এবং প্রভাব তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। নতুন মিডিয়া-স্বত্ব কার্যকর হলে বাণিজ্যিক আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা আইসিসিকে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে উৎসাহিত করছে।
পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় ২০২৭-৩১ মেয়াদের ভবিষ্যৎ সূচি প্রায় বর্তমান কাঠামোতেই থাকবে। সম্ভাব্য পরিবর্তন হিসেবে কেবল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনা হতে পারে। ফলে আপাতত বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট যোগ হচ্ছে না এবং সূচি ও ক্রিকেট অর্থনীতিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের প্রভাবও অক্ষুণ্ন থাকছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন