প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ঘোষণা করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অভিযান প্রত্যাখ্যান করে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের কথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’কে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটনের ‘নজিরবিহীন ঋণ ও দ্রুত বাড়তে থাকা সুদের ব্যয়’ থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ব্যর্থ নীতিতে আরও জোর দেওয়া হলে তা শুধু আরও পরাজয় ডেকে আনবে।’
এছাড়া, আরাঘচি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
ইরান আগের যুদ্ধ ছয় মাসেরও বেশি গড়িয়েছে। যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, কিন্তু সমাধানের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতর ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। কারণ, যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে মার্কিন ভোক্তাদের চাপের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাশাপাশি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ট্রাম্প দেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
এমন অবস্থায়, ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প একটি নতুন বড় নিষেধাজ্ঞার অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ আমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করছি! এটি হবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং একঘরে অবস্থা।’
তিনি হুমকি দিয়ে আরও বলেন, ইরানকে সহায়তা করে বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করে—এমন যেকোনো দেশকে ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তার ভাষায়, ‘যে দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ দেবে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
সম্প্রতি, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই ধরনের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের পাশাপাশি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শিগগিরই আরও জোরদার করবে যুক্তরাষ্ট্র—এটি হবে দ্বিমুখী কৌশলের অংশ। রক্ষণশীল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে বেসেন্ট আরও বলেন, ‘এটি অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার এমন এক সমন্বিত উদ্যোগ হবে, যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন