প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, ‘অভিবাসন ব্যবস্থাপনা’ অভিযানটি পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে, এবং এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা নির্বাসিত করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ মালাউই, জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিক।
অভিযান চলমান থাকায় এই সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের পর সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের ঘটনার প্রেক্ষিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই বছরের অন্যতম বৃহৎ অভিযান পরিচালনা করছে।
বিক্ষোভকারীরা গোল বাঁধাচ্ছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা এবং গণ নির্বাসনের দাবি তুলছে, এবং অভিবাসীদের উচ্চ বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান অপরাধের হার ও সরকারি পরিষেবাগুলোর পতনের জন্য দায়ী করছে।
অপরদিকে, জাতিসংঘ সক্রিয়ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে যে, অভিবাসীদের দায়ী না করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন এমন ঘোষণা দিয়েছেন। এতে নতুন করে সহিংসতার সম্ভাবনা উজ্জীবিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা ৩০ জুনকে নির্ধারিত অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে সকল নথিপত্রহীন অভিবাসী দেশ ত্যাগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে, সহিংসতা ও ভীতি এড়াতে অনেক বিদেশি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে নিজ দেশে চলে গেছেন। ঘানা, নাইজেরিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়াসহ কিছু দেশ সম্প্রতি তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার ও সাংবিধানিক উন্নয়নমন্ত্রী মামোলোকো কুবাইয়ি জানান, বর্তমানে ৫৩ হাজার ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিককে নির্বাসন বা দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক মালাউইয়ের। এছাড়াও জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিকরাও রয়েছেন।
রবিবার প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, কুবাইয়ি বলেন, সরকার একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে, যা জনগণের উদ্বেগ বিবেচনায় নেবে এবং নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে মানবাধিকার ও মর্যাদাকে নিশ্চিত করবে।
তিনি আরো জানান, অভিযান পরিচালনার সময় কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ছিল। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিক্ষোভকারীরা যেনো অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত তল্লাশি না চালায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসনের বিষয়টিতে জনগণের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে অভিবাসীদের ওপর হামলার নিন্দা জানান এবং নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে আসা অভিবাসীদের আকর্ষণ করে আসছে, এবং তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে প্রবেশ করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন