প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, irrespective of their political affiliation. গত বৃহস্পতিবার তিনি নিজের দলের সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের প্রতি একটুও ছাড় দেবেন না। তার শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি কেবল কথার কথা নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন, তা তিনি বিশ্বাস করেন এবং কার্যকর করেন।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকলেও কোন রাজনৈতিক দল তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফেনীর জয়নাল হাজারী কিংবা ইয়াবা সম্রাট বদির মতো পরিচিত সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। সবার জানা ছিল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু তৎকালীন সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু সংসদ সদস্যরাই নয়, সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছিল না, কারণ তারা শাসক দলের ছত্রছায়ায় ছিল। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের যেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু তারেক রহমান গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির এই অনৈতিক ধারা পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের কোন দলীয় পরিচয় নেই, তাদের একটাই পরিচয় তারা অপরাধী। তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তিনি নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার সাথে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম যুক্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে অতীতে বহু সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরকম কিংবা এরচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। এর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্বীকৃতির সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। নিজের দলের লোকদের খারাপ বললে জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়- এই ভুল ধারণা রাজনীতিতে প্রচলিত। তাই ক্ষমতাসীনরা নিজেদের দলের অপরাধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, যা সবসময় তাদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি করা যায় এবং এর বিচার হয় না। এর ফলে শুধু ক্ষমতাসীন দলের ক্ষতি হয়নি, বরং সামগ্রিকভাবে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। কিন্তু অতীতে কোন দলের নেতাই সাহসের সাথে নিজের দলে শুদ্ধি অভিযান করতে পারেননি, ফলে রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেনি।
তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিএনপির কঠিন সময়ে, যখন দলের নেতা-কর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে, নানা রকম জুলুম নির্যাতনের শিকার, তখনও দলের শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোন আপস করেননি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারেক রহমান একটুও দ্বিধা করেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এই সময়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব হেভিওয়েট নেতারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু বিপথগামী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পথে পা বাড়ায়। কিন্তু তারেক রহমান এদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি দেখাননি। তাদের একবিন্দু পরিমাণও ছাড় দেওয়া হয়নি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত দুই বছরে বিএনপির সহস্রাধিক নেতা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এখন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন যে, তিনি বিএনপিকে পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে কোন ধরনের ছাড় দেবেন না। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না। এটি দলীয় নেতাকর্মী কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
এই পদত্যাগের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে- সরকার এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে, এবং আর কোনো বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বাড়াবাড়ি করলেই এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে দেশে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম অনেকটাই কমে আসবে। এর ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভেতরের আবর্জনা পরিষ্কার করার সাহস পাবে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিকে দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস মুক্ত করতে সাহায্য করবে, এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন