প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যে শিশু ও কিশোরীদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনের ঘটনার কারণে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো দাবি করেছেন, ২১৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে গত কয়েক দশকে অন্তত আড়াই লাখ মেয়ে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর সহিংসতার শিকার হয়েছে।
এসব অপরাধের সাথে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষ।
এখন বোঝা দরকার যে, এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্যের সরকার বা পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ নয়, বরং এটি এমপি লো-এর নিজস্বভাবে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট। যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে তারা বোঝাতে চান এমন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে, যারা মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের টার্গেট করে। এসব মেয়েরা অনেক সময় সুবিধাবঞ্চিত, পারিবারিক সমস্যা, দারিদ্র্য বা সামাজিক ঝুঁকিতে থাকেন।
প্রথম ধাপে অপরাধীরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। তারা ভালবাসা, যত্ন বা সম্পর্কের ভান করে মেয়েদের প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়। এরপর ধীরে ধীরে এসব মেয়েদের যৌন নির্যাতনের চক্রে জড়িয়ে ফেলা হয় এবং একপর্যায়ে তারা ভয়, চাপ ও মানসিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আটকে পড়ে।
কয়েকটি ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার শিকারদের একটি বড় অংশ শ্বেতাঙ্গ মেয়ে। এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যের সরকার এই সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে নেয়নি। অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর কোন পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। কিছু ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তারা সাহায্যের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে গেলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।
কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বলা অভিযোগগুলিকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়নি। ইয়াহু নিউজের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আড়াই লাখ ভুক্তভোগী সংখ্যা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, তবে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। যদিও সংখ্যাগত বিতর্কের বাইরে গিয়ে লোর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন, ভয়ভীতি, হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
রুপার্ট লো জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছে এবং এতে প্রায় ৬ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। সরকারের অর্থায়নের পরিবর্তে এই প্রকল্পটি জনসাধারণের অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে এর আগে একাধিক তদন্ত হয়েছে এবং এর মধ্যে ‘জে ইনকোয়ারি’ এবং ‘টেলফোর্ড ইনকোয়ারি’ উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মোট ১৪৯টি স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকায় এ ধরনের অপরাধচক্রের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে শত শত ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য, আদালতের নথি এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অনেক সময় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল যে, অভিযুক্তদের বেশির ভাগ পাকিস্তানি মুসলিম হওয়ায় বিষয়টি বর্ণবাদী ইস্যু হিসেবে দেখা হতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা, যৌন অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে অতীতে অভিযোগ পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও আবার সামনে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন