প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), শেরপুর জেলা শাখা। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে সংগঠনটি। কর্মসূচিতে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে জেলা জাসাসের উদ্যোগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে থানার মোড় মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন শেরপুর জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এ.কে.এম. এনামুল হক বিপু। পরে থানার মোড় মুক্তমঞ্চে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসাসের সদস্য সচিব মোঃ হারুন অর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জাকির হোসেন, মিলন মিয়া ও সবুজ মিয়া এবং জেলা জাসাসের সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত জহুরুল ইসলাম জাপি। এ ছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, জাসাসের সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, সমর্থকসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল চেতনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দেশপ্রেম এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো জড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কেবল একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি জাতীয়তাবাদী দর্শন, দেশীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পচর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জাতীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশপ্রেম ও মানুষের অধিকারবোধকে ছড়িয়ে দিতে জাসাসের নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁরা বলেন, সাংগঠনিক ঐক্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।
জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এ.কে.এম. এনামুল হক বিপুর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন শেরপুর জেলা জাসাসের সাংগঠনিক তৎপরতায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন